Advertisement
E-Paper

ঢাকার পয়লা যেন অষ্টমীর একডালিয়া

কার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে! কখনও মনে হচ্ছিল কলকাতার কলেজ স্কোয়ার বা একডালিয়ার পুজো মণ্ডপ। কখনও বা শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের চেহারা। তা সে রমনার বটমূলের বৃন্দগানই হোক কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

দেবদূত ঘোষঠাকুর

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮ ০৩:৩৭

কার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে! কখনও মনে হচ্ছিল কলকাতার কলেজ স্কোয়ার বা একডালিয়ার পুজো মণ্ডপ। কখনও বা শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের চেহারা। তা সে রমনার বটমূলের বৃন্দগানই হোক কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা। পুজো, বসন্ত উৎসবের মিলমিশে একাকার ঢাকার নববর্ষের সকাল।

দিনাজপুরের নবম শ্রেণির ছাত্রী ঝিলিক বিশ্বাস নববর্ষে মামাবাড়ি ঢাকায় বেড়াতে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মা ও বোনের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। নববর্ষের জন্য নতুন ডিজাইনের শাড়ি পরে ওরা তিন জন। ঝিলিকের মা প্রতি বছরই নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করেন। ‘‘এটাই এখন আমাদের জাতীয় উৎসব। যেখানেই থাকি ঠিক চলে আসি,’’ বলছিলেন ঝিলিকের মা। তত ক্ষণে জনস্রোত নেমে পড়েছে রাস্তায়। হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়িয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দড়ির ব্যারিকেড দিয়েও উৎসাহী জনতাকে ঠেকাতে পারছেন না।অষ্টমীর রাতে কলকাতায় যেমন হয়। শোভাযাত্রায় মন্ত্রী-সান্ত্রি সবাই ছিলেন। শোভাযাত্রা ঘিরে থিকথিক করছিল পুলিশ। তাতে অবশ্য ঝিলিকদের আনন্দে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

শুক্রবার রাতে দেখছিলাম রাস্তায় ছেলেমেয়েরা ভিড় করে আলপনা দিচ্ছেন। গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেমনটা এখন পুজোর সময়ে কোনও কোনও রাস্তায় হয়, বাংলাদেশের নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের ঢঙে। শনিবার ভোরে হোটেলের জানলা খুলে দেখি সেজেগুজে রাস্তায় নেমে পড়েছেন মানূষ। কেউ যাচ্ছেন রমনা ময়দানে। কেউ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। সকাল সাতটায় বন্ধ হয়ে গেল যানবাহন। গোটা শহর মেতে গেল বর্ষবরণে।

আরও পড়ুন: মৌলবাদকে পথে নেমে মোকাবিলা বাংলাদেশে

‘‘শুধু ঢাকা নয়, প্রতি জেলাতেই বর্ষবরণের মেজাজ এমনই,’’ বলছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত কর্তা নুরুল ইসলাম। শুধু পুজো নয়, কলকাতার সরস্বতী পুজো, ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র মেজাজও যেন ধরা পড়ল বাংলাদেশের এই নববর্ষে! জাতি-ধর্মের বেড়া ডিঙিয়ে এ যেন সর্বজনীন উৎসব। নুরুল বলছিলেন, ‘‘কর্মসূত্রে সারা বছর নানা দেশে ঘুরে বে়ড়াই। কিন্তু বছর পয়লায় এখানে ফিরবই।’’

বাঙালির উৎসবের সঙ্গেই মিলেমিশে রয়েছে খাবার। প্রাতরাশে কোথাও পান্তা ভাত আর শুঁটকি মাছ, কোথাও বা পান্তা আর ইলিশ মাছ ভাজা। এমনকী পাঁচ তারা হোটেলে মধ্যাহ্নভোজের মেনুতেও অন্যতম আকর্ষণ পান্তা আর ইলিশ ভাজা! সঙ্গে শুকনো লঙ্কা পোড়া, পেঁয়াজ, গন্ধরাজ লেবু, বেগুন-চালকুমড়ো ভাজার সঙ্গে লইট্যা আর শেদল শুঁটকিও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতই নববর্ষে ইলিশের বদলে শুঁটকি খাওয়ার আর্জি জানান, ঢাকাইয়া পাতে এ দিন ইলিশ-শুঁটকির সহাবস্থানই ছিল বেশি।

Poila Baisakh 2018 Durga Puja Dhaka Bengali New Year
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy