মা হওয়া কি মুখের কথা? প্রত্যেকটি মাকেই গর্ভাবস্থায় নানারকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কারও ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অনেকাংশেই জটিল। সাধারণত ১৮ বছরের কম এবং ৩৫ থেকে ৪০ বছরের বেশি হলে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি আসতে পারে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কী করা উচিত এবং কোন চিকিৎসা পদ্ধতিই বা অবলম্বন করা উচিত, সেই বিষয়েই আলোকপাত করলেন মণিপাল হাসপাতাল, সল্টলেকের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালটেন্ট, অবস্টেট্রিক্স ও গাইনেকোলজি, চিকিৎসক অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় এবং পলি চট্টোপাধ্যায়।
চিকিৎসক অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গর্ভাবস্থা একটু শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, কিন্তু যদি কিছু বিচ্যুতি ঘটে, তখন তাকে উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন গর্ভাবস্থা বলা হয় এবং এই ক্ষেত্রে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয় অর্থাৎ চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত যাওয়া, পালস, রক্তচাপ পরীক্ষা করা, নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড এবং রক্তপরীক্ষা করা।”
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কী করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করলেন চিকিৎসক অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় এবং পলি চট্টোপাধ্যায় এবং সময়ের আগেই যে সব শিশুরা জন্মগ্রহণ করে তাদের বিশেষ যত্নে কী করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করলেন চিকিৎসক পল্লব চট্টোপাধ্যায় এবং প্রেরণা গোয়েঙ্কা।
সাধারণত দেখা যায় যদি মায়ের ডায়াবিটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, অথবা শিশুর ফুল বা প্লাসেন্টা নিচের দিকে থাকে, আবার যদি মায়ের জল বেশি বা কম থাকে, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি আসতে পারে। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিডের ওষুধ শুরু করে দেওয়া হয় এবং অ্যা অ্যান্টি-ন্যাটাল টিকা দেওয়া হয় যাতে শুধু মা-ই নয়, সন্তানও সুস্থ থাকে।
মণিপাল হাসপাতাল দক্ষতার সঙ্গে এই উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন গর্ভাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। চিকিৎসক পলি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন গর্ভাবস্থার মধ্যে যাঁদের যমজ সন্তান অথবা তিনটি সন্তান রয়েছে তাঁদের ঝুঁকির সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। যাদের অনেকবার করে গর্ভপাত হয়, তাদেরও আমরা উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন গর্ভাবস্থার মধ্যে ফেলি। সেইসব ক্ষেত্রে আমাদের কিছু কিছু সেলাই করতে হয়। যাতে জরায়ুর মুখ না খুলে যায় তার ব্যবস্থা আমরা করি। বাচ্চার পরিপূর্ণতার জন্য আমরা যেমন একটা ইঞ্জেকশন দিই, আবার শিশুর স্নায়ুতন্ত্র গঠনের জন্যও আমরা ইঞ্জেকশন দিই। আমাদের এখানে অত্যাধুনিক লেভেল ৩ এনআইসিইউ রয়েছে, যেখানে ৭০০ গ্রাম বাচ্চারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছে।”
সুস্থ মায়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুও যাতে সুস্থ ভাবে জন্মগ্রহণ করতে পারে তার খেয়াল রাখে মণিপাল হাসপাতাল। শুধু জন্মই নয়, তারপরেও শিশুর শরীর সম্পর্কিত কোনও জটিলতা দেখা দিলে তার সমাধানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সর্বদা তৈরি থাকেন।
সময়ের আগেই যে সব শিশুরা জন্মগ্রহণ করে তাদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন পরে। সেই বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালটেন্ট, পেডিয়াট্রিক্স ও নিওন্যাটোলজি, পল্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের এখানে খুব ছোট ছোট বাচ্চা, ২৭ - ২৮ সপ্তাহের মধ্যেই যারা হয়ে গেছে, তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে। প্রথমদিকে তাদের শ্বাসকষ্ট হয়, তারপর খেতে সমস্যা হয়, ওজন ঠিকভাবে বাড়তে চায় না, এই সমস্যাগুলিকে আমরা সমাধান করি।”
কনসালটেন্ট, পেডিয়াট্রিক্স এবং নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের ইন-চার্জ, চিকিৎসক প্রেরণা গোয়েঙ্কা জানান, “মণিপাল হাসপাতাল, সল্টলেকে লেভেল-৩ এনআইসিইউ রয়েছে, যেখানে বিশ্বমানের প্রযুক্তি রয়েছে, যেমন ভেন্টিলেটর, সিপ্যাপ, এইচএফএনসি সাপোর্ট। শুধু প্রযুক্তি নয়, আমাদের বিশেষজ্ঞদের দল সব সময় তৈরি থাকে শিশুদের সঠিকভাবে চিকিৎসা করার জন্য।"
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মণিপাল হাসপাতাল, সল্টলেক নিশ্চিত করে মা এবং শিশুর সুস্থ স্বাস্থ্য।
এই প্রতিবেদনটি ‘মণিপাল হাসপাতাল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।