E-Paper

ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে বাজেট, নজরে প্রতিরক্ষা, রফতানিও

বাজেটে রাখার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে আসা নানা প্রস্তাবের মধ্যে আছে প্রবীণ নাগরিকদের ব্যাঙ্কের সুদে কিছুটা করছাড়। এতে এক দিকে যেমন বয়স্ক করদাতাদের সুবিধা হবে, তেমনই ফের আকর্ষণ বাড়বে ব্যাঙ্কে অর্থ জমানোর।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৭
নির্মলা সীতারামন।

নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।

দেশ এখন বাজেট বলয়ে। আগামী রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করবেন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। গত বছরে বড় প্রাপ্তির পরে, এ বারের বাজেট দেখার জন্যে অবশ্য তেমন মুখিয়ে নেই সাধারণ মানুষ। মধ্যবিত্ত মহলে নেই তেমন জল্পনাও। তার উপরে কিছু দিন আগে জিএসটি ছাড় বাবদ একাধিক পণ্যের দাম কমেছে।

বাজেটে রাখার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে আসা নানা প্রস্তাবের মধ্যে আছে প্রবীণ নাগরিকদের ব্যাঙ্কের সুদে কিছুটা করছাড়। এতে এক দিকে যেমন বয়স্ক করদাতাদের সুবিধা হবে, তেমনই ফের আকর্ষণ বাড়বে ব্যাঙ্কে অর্থ জমানোর। লগ্নিকারীদের প্রস্তাব, শেয়ারে লাভের অঙ্ক বছরে ২ লক্ষ টাকা ছাড়ালে তার উপরে দীর্ঘকালীন মূলধনী লাভকর বসুক। এখন তা বসে লাভ ১.২৫ লক্ষ পেরোলে। এই বদল অস্থির বাজারকে চাঙ্গা করতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলির সংগঠন অ্যাম্ফি-র প্রস্তাব, ঋণপত্র নির্ভর ফান্ডে আগের মতো দীর্ঘকালীন মূলধনী লাভ নির্ধারণে মূল্যবৃদ্ধি সূচক (কস্ট ইনফ্লেশন ইনডেক্স) প্রয়োগের সুবিধা ফেরানো হোক।

অর্থমন্ত্রীকে বিশেষ ভাবে ভাবাবে প্রতিরক্ষা এবং রফতানি। যে কারণে এগুলি ঘিরে প্রত্যাশাও বেশি। বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধের আবহ তৈরি হাওয়ায় এবং কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। অন্য দিকে, ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া শুল্কনীতির কারণে সে দেশে রফতানি কমছে। বিকল্প বাজার হিসেবে অন্যান্য দেশে রফতানি বৃদ্ধির দাওয়াই থাকতে পারে বাজেটে। বিদেশি লগ্নিকারীদের লাগাতার পুঁজি প্রত্যাহারও ভাবাবে অর্থমন্ত্রীকে। রফতানি কমা এবং লগ্নি তুলে নেওয়ার কারণে ডলারে টাকার দাম কমছে। চড়ছে ডলার। আর যে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি তা হল, দ্রুত বাড়তে থাকা আর্থিক বৈষম্য এবং বড় শহরগুলিতে মারাত্মক বায়ু দূষণ। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ সম্প্রতি বলেছেন, দূষণের জন্য ভারতকে যে আর্থিক মূল্য চোকাতে হয়, তা যে কোনও শুল্কের তুলনায় বেশি। এই সবের জন্য বাজেটে ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মানছেন অনেকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ার বাজারে। গত কয়েক দিনে ভাল রকম পড়েছে সেনসেক্স ও নিফ্‌টি। এর ফলে বেশ সন্ত্রস্ত শেয়ার এবং ফান্ডের লগ্নিকারীরা। ভরসা ছিল, সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফল বাজারকে শক্তি জোগাবে। আশা ছিল, জিএসটি ছাঁটাইয়ের পুরো প্রভাব দেখা যাবে অক্টোবর-ডিসেম্বরের সংস্থার হিসাবের খাতায়। কিন্তু তেমন ভাল ফল এখন পর্যন্ত কমই এসেছে। বরং হতাশ করেছে বেশ কয়েকটি বড় মাপের সংস্থা। এর মধ্যে আছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়, টিসিএস, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের মত কয়েকটি চেনা নাম। একাংশ দাবি করেছে, নতুন শ্রম বিধি অনুযায়ী খাতায় কিছু টাকা সরিয়ে রাখার কারণে তাদের লাভ কমেছে। তুলনায় ভাল ফল উপহার দিচ্ছে কিছু সরকারি ব্যাঙ্ক এবং সংস্থা। দেশবাসী এখন তাকিয়ে বাজেটের দিকে। যদি তাতে শিল্প এবং শেয়ার বাজারের জন্যে কিছু থাকে। ব্যবস্থা থাকে বিদেশি লগ্নিকারীদের ফিরিয়ে আনার জন্যে। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের সুর যদি কিছুটা নরম হয় এবং ভারতের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য সামঝোতায় আসেন তিনি, তা হলে সোনা-রুপোর মতো শেয়ারও ছুটবে। তখন কিছুটা নামতে পারে দুই মূল্যবান ধাতু।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Defense Export

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy