E-Paper

তালা পড়ল হাওড়ার চেঙ্গাইলের চটকলে, কাজ হারালেন চার হাজার শ্রমিক

চটকল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে কাঁচা পাটের সঙ্কট এবং তার জেরে মাত্রাছাড়া দাম এর জন্য দায়ী। লোকসান হওয়ায় কারখানা বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই। তবে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, পাটের অভাব দেখিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সপ্তাহে পাঁচ দিন মিল চালানো হচ্ছিল।

সুব্রত জানা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭

—প্রতীকী চিত্র।

আসন্ন বিধানসভা ভোটে চোখ রেখে রাজ্য রাজনীতি সরগরম রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে। সম্প্রতি হুগলির সিঙ্গুরে সভা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়লে শিল্পের হাল ভাল হবে। উল্টো দিকে জেলায় জেলায় ঘুরে শাসক দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরছেন তৃণমূল জমানায় বাংলার উন্নতির খতিয়ান। তারই মধ্যে মঙ্গলবার হাওড়ার চেঙ্গাইলে বন্ধ হয়ে গেল প্রেমচাঁদ জুটমিল। এ দিন সকালে কর্মীরা কাজে গিয়ে দেখলেন চটকলের গেটে ঝুলছে বন্ধের বিজ্ঞপ্তি। রুজি হারালেন প্রায় ৪০০০ জন।

চটকল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে কাঁচা পাটের সঙ্কট এবং তার জেরে মাত্রাছাড়া দাম এর জন্য দায়ী। লোকসান হওয়ায় কারখানা বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই। তবে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, পাটের অভাব দেখিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সপ্তাহে পাঁচ দিন মিল চালানো হচ্ছিল। ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘‘সংস্থার আর্থিক সঙ্কট দেখিয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ হবে বলেছিলেন কর্তৃপক্ষ। সকলের রুজি-রোজগারের কথা ভেবে সব শ্রমিক সংগঠনই তা মেনে নেয়। এমনকিশ্রমিকদের উপর অত্যধিক কাজ চাপানো হলেও তাঁরা সব সহ্য করছিলেন। তবু মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ করা হল মিল।’’ তাঁর দাবি, এত লোকের সংসার কী ভাবে চলবে, ভাবা হল না। রাজ্যের মানুষ যখন এসআইআর আতঙ্কে ভুগছেন, তখন কারখানা বন্ধ হওয়ায় কিছু মানুষের বিপদ আরও বাড়ল।

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা মন্টু শাসমলের অভিযোগ, ‘‘যে শ্রমিকরা দু’টি করে মেশিন চালাতেন, তাঁদের চারটি করে চালাতে বলা হচ্ছিল। সেটা তাঁরা মেনেও নেন। এর পরে বলছে, এক জনকে ছ’টা করে মেশিন চালাতে হবে। সেটা সম্ভব নয়। কিন্তু চটকল কর্তৃপক্ষ মানছিলেন না। চাপ দিচ্ছিলেন। কেউ যখন রাজি হলেন না, তখন পাটের অভাব এবং দামের অজুহাতে দরজায় তালা ঝোলানো হল।’’

এ দিন সকাল থেকে চটকলের গেটের সামনে ভিড় জমতে থাকে কর্মীদের। হতাশ মুখে অনেককেই বলতে শোনা যায়, সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ হলেও, কোনও রকমে সংসারটা চলছিল। একেবারে তা বন্ধ হওয়ায় মাথায় হাত পড়ার মতো অবস্থা হল। কানে এল আক্ষেপ, ‘‘তিন ছেলে মেয়েকে এ মাসেই স্কুলে ভর্তি করতে হবে। কিন্তু কী ভাবে দিন চলবে সেটাই বুঝতে পারছি না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jute Workers

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy