আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও ইরানের প্রতিক্রিয়া আসেনি। দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজ় প্রণালীকে বিকল করে বহাল ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং আমেরিকার পাহারা— পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি না মেটার ইঙ্গিতবাহী এই সব ঘটনার জেরেই তেতে রয়েছে সারা বিশ্বের শেয়ার বাজার। ভারতে সেনসেক্স বুধবার পড়েছিল ৭৫৬.৮৪ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার পড়ল আরও ৮৫২.৪৯। দাঁড়াল ৭৭,৬৬৪ অঙ্কে। নিফ্টি থিতু হয়েছে ২৪,১৭৩.০৫-এ। দু’দিনে মোট পতন ৪০০.৫৫। দুর্বল হচ্ছে টাকাও। ডলার ফের পেরিয়েছে ৯৪ টাকা। লাগাতার চার দিন নেমে দাঁড়িয়েছে ৯৪.০১ টাকা।
বাজার মহলের দাবি, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতেই বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ফের ১০০ ডলার পেরিয়েছে। এর ধাক্কা তেলে আমদানি নির্ভর ভারতের এড়ানো মুশকিল। তাই দেশি-বিদেশি লগ্নিকারীরা ঝুঁকি না নিয়ে শেয়ার বেচে মুনাফা তুলছেন। ফলে দু’দিনেই সেনসেক্স পড়েছে মোট ১৬০৯.৩৩।
বাজার বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দীর দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা কাজে লাগেনি। উল্টে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। হরমুজ় কার্যত স্তব্ধ। এতে তেল-গ্যাসের দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলতে পারে। জিএসটির হার কমার পরে দেশে চাহিদা বাড়তে দেখা গিয়েছিল। এখন কমছে। এর প্রভাব গত জানুয়ারি-মার্চে শিল্প সংস্থার আর্থিক ফলে কতটা পড়বে, তাই নিয়ে চিন্তা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে আশিসের এটাও বার্তা, ‘‘ভারতের বাজারে দুশ্চিন্তা থাকলেও, লগ্নিকারীদের আতঙ্কে পড়ার কোনও কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’’
আইসিএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ কী, বুঝতে পারছেন না কেউ। তবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভারতের উপরে লগ্নিকারীদের আস্থা কমাচ্ছে। যা টাকাকে দুর্বল করছে। তেল কিনতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধিও এর কারণ। টাকার অবমূল্যায়ন রুখতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক এর আগে বেশ কিছু পদক্ষেপ করলেও ভারতীয় মুদ্রাকে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা থেকে আড়াল করে রাখা যাচ্ছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)