নতুন বছরের (২০২৬-২৭) তৃতীয় সপ্তাহে পা রেখেছি আমরা। গত এক বছরে আর্থিক নানা বিষয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে। ৩৭৫টি পণ্যে কমেছে জিএসটি। ফলে মানুষের হাতে থেকেছে বেশি টাকা। অন্য দিকে, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট (যে হারে আরবিআই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ককে ধার দেয়) নামিয়ে এনেছে ৫.২৫ শতাংশে। ফলে সুদ কমেছে ব্যাঙ্ক ঋণ ও জমায়। মূল্যবৃদ্ধি শীর্ষ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার (২%-৬%) মধ্যে থাকলেও, গত ক’মাসে খুচরো বাজারে তা ফের মাথা তুলে হয়েছে ৩.৪০%।
তার উপরে গত বছর দেশের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছিল আমেরিকা ভারতীয় পণ্যে চড়া হারে শুল্ক চাপানোয়। মার্চে গোটা বিশ্ব সঙ্কটে পড়ে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যুদ্ধে জড়ানোয়। ভারতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ তলানিতে ঠেকে। দাম বাড়ানো হয় রান্নার গ্যাসের। অশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সময়ে পৌঁছয় ব্যারেলে ১২০ ডলারের কাছে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় মার খায় ভারতের আমদানি-রফতানি। ধস নামে শেয়ার বাজারে। তার প্রভাব দেখা যায় মিউচুয়াল ফান্ডেও। বহু প্রকল্পের ন্যাভ কমায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন লগ্নিকারীরা। সেই আশঙ্কা এখনও কিছুটা বহাল রয়েছে।
এত দুশ্চিন্তার মধ্যেও একটি ভাল খবর হল আরবিআই সুদ ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমানোয় ব্যাঙ্কগুলি মেয়াদি জমায় তা ছাঁটাই করলেও, এখনও স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সুদ কমেনি। প্রবীণদের বিশেষ জমা প্রকল্পে সুদ মিলছে ৮.২%, যেখানে ব্যাঙ্কে তা বড়জোর ৭%। এ ছাড়া জাতীয় সঞ্চয় সার্টিফিকেটে সুদ দেওয়া হচ্ছে ৭.৭%। যে কারণে একই জায়গায় (৮.০৫%) স্থির রয়েছে ভারত সরকারের পরিবর্তনশীল সুদযুক্ত বন্ডেও। যাঁরা ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁদের জন্যে এটা ভাল খবর। তবে পাঁচ রাজ্যে ভোট মিটলে কিছু স্বল্প সঞ্চয়ে সুদ কমানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
শিল্পে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক ঋণের চাহিদা বেড়েছে। ঋণ বৃদ্ধির হার ছাপিয়েছে আমানতকে। যে কারণে জমায় সুদ কমার সম্ভাবনা কম। বরং মূল্যবৃদ্ধি চড়লে আগামী দিনে তা বাড়াতে পারে কিছু ব্যাঙ্ক। আবার অশোধিত তেলের দাম ৮০-৯০ ডলারে থাকলে বহু পণ্যের দাম বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে জাতীয় আয়ে। আশঙ্কা, ভোট শেষে দেশে বাড়ানো হতে পারে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম।
প্রথমে শুল্ক যুদ্ধ ও তার পরে ইরান যুদ্ধের আবহে বাজার বেশ অস্থির। অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে শেয়ারে মানুষ বড় লগ্নি করতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে এসআইপি পথে মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বহাল রয়েছে। ফান্ড থেকে মোটা টাকা বাজারে আসছে বলেই বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি টানা শেয়ার বিক্রি করলেও, সূচকের পতন তুলনায় কম হয়েছে। বস্তুত গত সপ্তাহের কয়েক দিনে দুই সূচক খানিকটা উঠেছে। আজ বাজার কেমন খুলবে, তা নির্ভর করবে হরমুজ় খোলা নিয়ে ইরান-আমেরিকা সহমত হয় কি না, তার উপরে।
শনিবার শেষ ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশ করেছে দুই বেসরকারি ব্যাঙ্ক। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ৮% বেড়ে এই প্রথম হয়েছে ২০,৩৫০ কোটি টাকা। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কেরতা ১৪,৭৫৫ কোটি (বৃদ্ধি ৯.২৮%)।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বড় উত্থানের মুখ দেখার পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে সোনা-রুপোর দাম। তবে চিন্তা বাড়িয়ে ডলার চড়েছে ৯৩ টাকায়। এতে রফতানিতে সুবিধা হলেও, পণ্য আমদানিতে বেশি খরচ পড়ছে। ফলে অনিশ্চয়তা থাকছেই। তাই মানুষকে বুঝেশুনে খরচ ও লগ্নি করতে হবে।
(মতামত ব্যক্তিগত)
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)