আমেরিকা-ইজ়রায়েল-ইরানোর যুদ্ধের আট দিন গড়িয়েছে। এই ক’দিনেই তেল-গ্যাসের জোগান নিয়ে চিন্তা বাড়ছে প্রায় সব দেশে। ব্যতিক্রম নয় ভারত। ইতিমধ্যেই দেশে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে মোদী সরকার। তার জোগান বাড়ানো, বুকিং-এর নিয়মে বদলের পথে হেঁটেছে তারা। এ বার তেলেও বিকল্প পথে আমদানির দিকে নজর দিচ্ছে দেশীয় সংস্থাগুলি। সে জন্য রাশিয়া, আমেরিকা ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলছে তারা।
দেশে চাহিদার প্রায় ৮৮% তেলই আমদানি করে ভারত। তার প্রায় ৫০% আসে ইরান ও ওমানের মধ্যেকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে। আবার এ দেশের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০% আমদানি হয় এই প্রণালীর মাধ্যমে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ থেকে তা কেনা হয়। বিশেষত, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য গত বছর ভারতীয় পণ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক চাপানোর পরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে বেশি করে নজর দিয়েছিল ভারত। কিন্তু এখন যুদ্ধে সমস্যায় পড়েছে দেশ।
তেল মন্ত্রক সূত্রের দাবি, এই অবস্থায় হরমুজ বাদে অন্যান্য পথে তেল কেনা বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই সব পথে চাহিদার ৬০% আসত। এখন পৌঁছেছে ৭০ শতাংশে। তার উপরে যুদ্ধের কারণে এক মাস ফের রাশিয়ার তেল কেনায় নয়াদিল্লিকে ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। হিসাব বলছে, ভারতের কাছাকাছি বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল রাশিয়ার অশোধিত তেল মজুত রয়েছে। সেটা সহজেই পেতে পারবে ভারত। তেল শিল্পের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই সে জন্য কথা শুরু করেছে দেশীয় সংস্থাগুলি।
মন্ত্রকের সূত্রের দাবি, আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে অশোধিত এবং শোধিত তেলে যথেষ্ট ভাল জায়গাতেই রয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে মজুত রয়েছে ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো পণ্য। যদিও যুদ্ধ বেশি দিন চললে এবং তেলের দাম ও তা আনার খরচ (বিমা, জাহাজ ভাড়া ইত্যাদি) বাড়লে সমস্যা হতে পারে বলে সতর্ক করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)