দেশে এখন এলপিজি নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলেই দাবি করল বৃহত্তম তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল। জানাল, দিনে গড়ে ২৮ লক্ষের বেশিসিলিন্ডার গ্রাহকদের ঘরে পৌঁছনো হচ্ছে। এখনও হাতে যে পরিমাণে এলপিজি মজুত রয়েছে, তাতে সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্র কড়া নজর রাখছে। ফলে এই নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়ার মতো কিছু ঘটেনি। আইওসি-র স্পষ্ট বার্তা, গৃহস্থের হেঁশেলে রান্নার সিলিন্ডারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কাজেই এ ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না।
যদিও বাস্তবের ছবিটা অনেক ক্ষেত্রেই ততটা নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো নয় বলেই দাবি গ্রাহকদের একাংশের। ডিলার বা গ্যাস বণ্টনকারীদের দোকানের বাইরে ভিড় কিছুটা কমেছে বটে। কিন্তু বহু গ্রাহকই জানাচ্ছেন, গ্যাস বুকিং-এর পরে দিন ১৫ মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিলিন্ডার পেতে। অনেকে এক বারে বুকিং-ও করতে পারছেন না। বুকিং করতে পারলে ডেলিভারি কোড সময়ে আসছে না। কবে সিলিন্ডার মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারছেন না ডিলারেরা।
ইন্ডেন এলপিজি ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিজন বিশ্বাস জানান, পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু সিলিন্ডার ডেলিভারি নিয়ে এখনও শ্লথ ভাব রয়েছে। এর মূল কারণ, কোনও ডিলারই চাহিদার ১০০% সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, এলপিজি বাইরে থেকে আনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির। যে কারণে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ভারতে এখন দৈনিক এলপিজি লাগে ৮০,০০০ টন। তার মধ্যে ৫০,০০০ টন দেশে উৎপাদিত হয়। ইন্ডিয়ান অয়েল জানিয়েছে, এখন ৮৭% গ্যাস বুকিংই হচ্ছে অনলাইনে। এর থেকে স্পষ্ট এই ক্ষেত্রেও সমস্যা অনেকটা কেটেছে।
সংস্থা সূত্রের খবর, বেআইনি ভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং লেনদেন রুখতে দেশে ৬৮ হাজারের বেশি জায়গায় তল্লাশি চলেছে। ৮৫৫টি এফআইআর করা হয়েছে। পাঁচ জন্য গ্যাস ডিলারকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল জানিয়েছে, গ্রাহকদের চিন্তার কিছু নেই। আতঙ্কের কারণে অযথা সিলিন্ডার বুক না করাই ভাল।
শুক্রবারও এলপিজি সিলিন্ডারের বেআইনি মজুত রুখতে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে আরও সদর্থক ভূমিকা নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। এই নিয়ে দৈনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জনগণকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)