Advertisement
E-Paper

মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস, ৭০ মিনিটে গায়েব ২০ হাজার কোটি ডলার! খাদে সেনসেক্সও, লক্ষ্মীবারে বড় লোকসান লগ্নিকারীদের

ইরান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বিশ্ব জুড়ে ফের হু-হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। অন্য দিকে একধাক্কায় অনেকটা নেমে গিয়েছে ভারত ও আমেরিকা-সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটা শেয়ারবাজার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৭
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে হাহাকার। মাত্র ৭০ মিনিটে মুছে গেল ২০ হাজার কোটি ডলার! স্টকের সূচক এ ভাবে খাদে নেমে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে লগ্নিকারীদের। ভারতের বম্বে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থাও তথৈবচ। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যারেল প্রতি বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ফলে বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। লক্ষ্মীবারে এ-হেন আর্থিক ধাক্কার জন্য একজনকেই দুষছেন দুনিয়ার তাবড় বিশ্লেষকেরা। তিনি আর কেউ নন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল, বুধবার ইরান সংঘাত নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন ‘পোটাস’ (প্রেসিডেন্ট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস)। বলেন, ‘‘তেহরান পরমাণু কর্মকাণ্ড থেকে সরে না এলে তাঁদের সঙ্গে কোনও চুক্তি সম্ভব নয়।’’ শুধু তা-ই নয়, ভারতীয় সময় অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ় প্রণালীর একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে নাম বদলে ওই সামুদ্রিক রাস্তাটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আপাতত অবরুদ্ধ থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প হরমুজ়ের ছবি পোস্ট করতেই দুনিয়া জুড়ে পড়ে যায় শোরগোল। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, অচিরেই ইরানে নতুন করে জোরালো ও সংক্ষিপ্ত আক্রমণ চালাবে আমেরিকা। সেই আশঙ্কা তীব্র হওয়ায় বিশ্ব বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে অপরিশোধিত তেলের দাম। এর সরাসরি প্রভাবে দুনিয়ার প্রায় প্রতিটা শেয়ারবাজার রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার, ২৮ এপ্রিল ওয়াল স্ট্রিটে সর্বাধিক লোকসানের মুখে পড়েন ডাও জোন্সের লগ্নিকারীরা। বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় ২৮০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছে এর সূচক। এ ছাড়া নিম্নমুখী ছিল এসঅ্যান্ডপি ৫০০। যুক্তরাষ্ট্রের লগ্নিকারীদের একমাত্র স্বস্তি দিয়েছে ন্যাসড্যাক। দিনের শেষে সামান্য উঠে দৌড় থামায় এটি। অন্য দিকে ডব্লিউটিআই (আমেরিকা), ব্রেন্ট (ব্রিটেন), উরাল (রাশিয়া) এবং ওপেক বাস্কেটে খনিজ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৩ থেকে ১০৮ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

লক্ষ্মীবারে বেলা ১২টার মধ্যে ১,১৮০.৫৬ পয়েন্ট পড়ে যায় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার সূচক সেনসেক্স। ফলে ৭৬,৩১৫তে নেমে এসেছে সেটি। এ ছাড়া ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০-তে দেখা গিয়েছে ৩৪৫ পয়েন্টের পতন। ফলে ২৩,৮৩২ পয়েন্টে ঘোরাফেরা করছে সেটি। আপাতত পরিস্থিতির বড় বদল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে দেশের তাবড় ব্রোকারেজ ফার্ম। তবে বাজার পড়লেও বাড়ছে সোনা ও রুপোর দাম।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

Sensex Nifty Fall Bombay Stock Exchange National Stock Exchange
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy