এইচ-১বি ভিসার খরচ বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলার করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা। যা অবিশ্বাস্য বলে মনে করছে বিশেষত প্রযুক্তি ক্ষেত্র। এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির সংগঠন ন্যাসকমের আশঙ্কা, এর ফলে সংস্থাগুলির কাজ ব্যাহত হবে।
আমেরিকার সময় অনুযায়ী শুক্রবার ওয়াশিংটন ভিসা সংক্রান্ত ঘোষণা করেছে। আর তা কার্যকরের জন্য সময় দিয়েছে মাত্র ২৪ ঘণ্টা। তাতে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মাথায় হাত। এই মুহূর্তে আমেরিকার বাইরে থাকা এইচ-১বি পেশাদারদের দেশে ফেরাতে সক্রিয় হয়েছে তারা। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টার মধ্যে তাঁদের আমেরিকায় ঢুকতে বলেছে মাইক্রোসফট, মেটা, জেপি মর্গ্যানের মতো সংস্থাগুলি। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকায় থাকা কর্মীদেরও দেশ ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এক বার গেলে আর ফেরা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘আমেরিকার সিদ্ধান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের কাছে বিরাট ধাক্কা। এই খরচে মুষ্টিমেয় কিছু কর্মী ছাড়া কেউই আর সে দেশে থাকতে পারবেন না। কারণ, খরচ কমানোর জন্য সংস্থাই রাখবে না।’’ কলকাতায় এরিকসনে কর্মরত অনিন্দ্য পাল (নাম পরিবর্তিত) জানান, তিনি নিয়ে এইচ-১বি ভিসাধারী। তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। টিসিএসের এক কর্তার বক্তব্য, এখন যাঁরা আমেরিকায় রয়েছেন তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে না। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হলে কী হবে সেটা বড় প্রশ্ন। আমেরিকার ডেট্রয়েটে থাকা সুদীপ্তা চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘১১ বছর রয়েছি। ২০২৬-এর মার্চে ভিসা নবীকরণ হওয়ার কথা। সংস্থা কী করে দেখি।’’
ন্যাসকম জানিয়েছে, তারা নতুন বিধির খুঁটিনাটি বোঝার চেষ্টা করছে। সংস্থাগুলি আমেরিকার ‘ক্লায়েন্টদের’ সঙ্গে কথা বলে সমাধানসূত্র খঁুজছে। তবে আমেরিকার অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনের উপরেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে দাবি তাদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)