E-Paper

বেড়েছে অশোধিত তেলের দাম, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বেশ কিছুটা কমতে পারে আর্থিক বৃদ্ধির হার

এসঅ্যান্ডপি অবশ্য জানিয়েছে, ভারতের অর্থনীতির ভিত মজবুত। বছর শুরুতে মাথা তোলা চাহিদা, নিয়ন্ত্রণে থাকা মূল্যবৃদ্ধি এবং আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি অর্থনীতিকে তুলনায় ভালজায়গায় রেখেছে। ব্যাঙ্ক-সহ আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্র চাঙ্গা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫১

— প্রতীকী চিত্র।

অশান্ত পশ্চিম এশিয়ার প্রভাবে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ১০০ ডলারের আশেপাশে। ভারত যে তেল কেনে (ভারতীয় বাস্কেট), তার চলতি মাসের গড় দাম প্রায় ১২৩ ডলার। দৈনিক দাম এখন প্রায় ১১৬ ডলার। এই অবস্থায় মঙ্গলবার এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের আশঙ্কা, বছর জুড়ে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেল গড়ে ১৩০ ডলার থাকলে ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৮০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক চলতি অর্থবর্ষে ৬.৯% আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। আশঙ্কা সত্যি হলে তা ৬ শতাংশের কাছে নামবে।

এর আগে মুডি’জ় এই অর্থবর্ষের জন্য ৬% বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। ওইসিডি মনে করছে তা হবে ৬.১%। ইক্রা অনুমান ৬.৫%। উপদেষ্টা ইওয়াই জানিয়েছে, প্রকৃত জিডিপি কমতে পারে ১০০ বেসিস পয়েন্ট। আর আজ আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৫%।

এসঅ্যান্ডপি অবশ্য জানিয়েছে, ভারতের অর্থনীতির ভিত মজবুত। বছর শুরুতে মাথা তোলা চাহিদা, নিয়ন্ত্রণে থাকা মূল্যবৃদ্ধি এবং আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি অর্থনীতিকে তুলনায় ভালজায়গায় রেখেছে। ব্যাঙ্ক-সহ আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্র চাঙ্গা। সরকারি ভর্তুকি ও ঘরোয়া চাহিদায় ভর করে তেলের চড়া দামের মোকাবিলা করা যাবে। তবু ক্ষত তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও বহাল।

এসঅ্যান্ডপি-র মতে, হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকলে গোটা বছরে তেলের আন্তর্জাতিক গড় দাম ছুঁতে পারে ১৩০ ডলার। তাতে ভারতের আমদানি খরচ বাড়বে। দেশে তেলের দাম বাড়লে চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধির হার। তাই আর্থিক শৃঙ্খলা ঝুঁকির মুখে। খাদের ধারে চাহিদাও। কারণ, তেলের চড়া দামের কারণে কাঁচামালের খরচ বাড়বে। ফলে সংস্থাগুলির মুনাফা কমতে পারে ১৫%-২৫%। তা পোষাতে পণ্যের দাম বাড়লে বোঝা চাপবে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। ফলে কমবে গৃহস্থের কেনাকাটা।

এ সবের জেরে ব্যাঙ্কগুলিতে অনাদায়ি ঋণ পৌঁছতে পারে ৩.৫ শতাংশে। সেই চাপ সামলাতে কেন্দ্রকে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হলে চড়বে রাজকোষ ঘাটতি। দুশ্চিন্তার কেন্দ্রে মূলত রাসায়নিক, শোধনাগার, বিমান পরিষেবার মতো ক্ষেত্র।

সতর্কবার্তা

সারা বছর তেল ব্যারেলে ১৩০ ডলার থাকলে বাড়বে আমদানি খরচ।

চলতি খাতে ঘাটতি বাড়তে পারে জিডিপি-র ০.৪ শতাংশ বিন্দু।

চড়বে কাঁচামাল-সহ বিভিন্ন জিনিসের দাম।

মাথা নামাবে কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা।

পণ্যের দাম বাড়লে দেশে কমবে চাহিদা, কেনাকাটা।

ব্যাঙ্কে অনাদায়ি ঋণ ছুঁতে পারে ৩.৫ শতাংশে।

কেন্দ্রকে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হলে ধাক্কা খাবে আর্থিক শৃঙ্খলা।

সব মিলিয়ে আর্থিক বৃদ্ধির হার নামতে পারে ৮০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Economy Economic Growth West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy