E-Paper

পাখির চোখ কর্মসংস্থান, শুল্কের ধাক্কা সামলাতে কাজে জোর বাজেটে

অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, বাজেটে শ্রমনিবিড় ক্ষেত্র, বিশেষ করে ক্ষুদ্র-ছোট-মাঝারি শিল্পের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, সহজে ঋণের জোগান, সুদে ভর্তুকি, বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়োজন মতো সুরাহা দেওয়ার চেষ্টা হবে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫
নির্মলা সীতারামন।

নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারির রবিবাসরীয় বাজেটে কর্মসংস্থানই পাখির চোখ হতে চলেছে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের।

বস্ত্র, চামড়া, জুতো, রত্ন-অলঙ্কার, হস্তশিল্পের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করেন। এগুলির অধিকাংশই ছোট বা মাঝারি শিল্প সংস্থা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধ এবং তার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার প্রভাব যাদের উপরে পড়ছে সব থেকে বেশি। রফতানি মার খাওয়ায় আগামী দিনে তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে পারে। এটা আঁচ করেই বাজেটে মোদী সরকার শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রকে নানা রকম সুরাহা দিতে চাইছে। সূত্রের খবর, ক্ষুদ্র-ছোট-মাঝারি সংস্থার জন্য বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করা হতে পারে। সঙ্গে জিএসটিআইনে করা হতে পারে পাঁচটি সংশোধন। এতেও ছোট-মাঝারি শিল্পেরউপরে প্রশাসনিক বোঝা কমবে।

কেন্দ্রের এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য, ‘‘কর্মসংস্থান তৈরিতে জোর দেওয়ার পাশাপাশি এর পিছনে বাধ্যবাধকতাও কাজ করছে। কারণ শুল্ক-যুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বস্ত্র, চামড়া, জুতো, রত্ন-অলঙ্কার ক্ষেত্রেরছোট-মাঝারি সংস্থাগুলিকেই তার ধাক্কা সইতে হচ্ছে। ব্রিটেন, নিউ জ়িল্যান্ড থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত (ইইউ-র অন্তর্ভুক্ত ২৭টি দেশ) একের পর এক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু তা কার্যকর হয়ে সুফল মিলতে সময় লাগবে। তাই আশু পদক্ষেপ হিসেবে বাজেটে কিছু সুরাহা দেওয়া জরুরি।’’

অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, বাজেটে শ্রমনিবিড় ক্ষেত্র, বিশেষ করে ক্ষুদ্র-ছোট-মাঝারি শিল্পের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, সহজে ঋণের জোগান, সুদে ভর্তুকি, বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়োজন মতো সুরাহা দেওয়ার চেষ্টা হবে। এ জন্য বিশেষ কিছু প্রকল্প ঘোষণা হতে পারে। চারটি শ্রম বিধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছোট-মাঝারি শিল্পকে মজবুত করার চেষ্টা করা হবে। নজরে থাকবে কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের নিয়ম কার্যকর করা, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা। অর্থনীতির সব ক্ষেত্রেই আর্থিক বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে মূল লক্ষ্য। সে জন্য ছোট-মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের জন্য বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো হতে পারে। এই ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ, ভারতীয় যুব শক্তি ট্রাস্টের প্রধান লক্ষ্মী ভেঙ্কটরামন ভেঙ্কটেশন বলেন, ‘‘বস্ত্র, চামড়া, জুতো, হস্তশিল্পের মতো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিকাঠামো-মূলক সাহায্য প্রয়োজন। যাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়।’’

মন্ত্রক সূত্র জানাচ্ছে, বাজেটে অর্থ বিলের মাধ্যমে জিএসটি আইনে পাঁচটি সংশোধন করা হতে পারে। মূলত আইনের জট কাটিয়ে সহজে কর জমার ব্যবস্থা এবং আইনি বিবাদ কমানোই লক্ষ্য। শিল্প মহল মনে করছে, এতেও ছোট-মাঝারি সংস্থাগুলি উপকৃত হবে। কারণ রিফান্ড বা করের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সরল হবে, কাঁচামালে মেটানো জিএসটি ফেরতের পদ্ধতি সহজ হবে, নগদের জোগান বাড়বে। ব্যবসার সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যে ৫০% শুল্ক চাপানোর পরে বাণিজ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেইরফতানি ক্ষেত্রের জন্য ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্পের সুবিধা ঘোষণা করেছে। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ শোধে সুরাহা দিয়েছে। মন্ত্রকের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘এর পরেও অনেক সংস্থাকে রফতানির বরাত বাতিল হওয়ায় বা ঠিকমতো দাম না মেলায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। গত বাজেটেও শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রের জন্য বেশ কিছু ঘোষণা হয়েছিল। এ বার মূলত বিশ্ব বাণিজ্যে ওঠানামার ধাক্কা থেকে রক্ষাকবচ দেওয়ার চেষ্টা হবে।’’

নজরে

আজ পেশ আর্থিক সমীক্ষা।

জানা যাবে কী অবস্থায় রয়েছে দেশের অর্থনীতি।

আর্থিক বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে।

কাজ তৈরি হয়েছে কতটা।

বিরোধীদের অভিযোগ

২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন শিল্পে কর্মী ১২.১% থেকে নেমেছে ১১.৪ শতাংশে। কৃষিতে ৪৪.১% থেকে ৪৬.১%।

কম বেতনের কাজ তৈরি হয়েছে অসংগঠিত ও নেটে পণ্য পৌঁছনোর (গিগ) ক্ষেত্রে।

ধনীদের ১০ শতাংশের হাতেই রয়েছে ৫৮% জাতীয় আয়। নীচু তলা পায় ১৫%।

সম্পদের বিচারে সেই হার যথাক্রমে ৬৫% এবং ৬.৪%।

১% ধনীতম ব্যক্তির হাতেই রয়েছে ৪০% সম্পদ।

২০০ টাকার কমে দিন চালান পাঁচ জনের চার জন।

পারিবারিক আয় পাঁচ দশকে সর্বনিম্ন (৫.২%)।

২০১৯-এর ৩৫%-এর তুলনায় পারিবারিক ঋণ ৪১%।

২০১৩-১৪ সালের ৩৮.১ শতাংশের থেকে আয়করে সাধারণের ভাগ ৫৩.৪%।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Budget Employment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy