ভোটের বাক্সে সাফল্য এসেছে। কিন্তু অর্থনীতির মূল অসুখটা যে সারেনি তা ভালই জানে মোদী সরকার। তাদের এখন প্রধান লক্ষ্য একটাই। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় যথেষ্ট কাজ তৈরি হয়নি বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা দূর করা। মোদী তাই চাইছেন দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই নতুন চাকরি তৈরির ভিত শক্তিশালী করতে। তার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করা শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও)। শুধু তা-ই নয়, সরকারি চাকরির শূন্যপদগুলি পূরণ করেও কর্মসংস্থানের ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাইছে কেন্দ্র। তাই চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোথায় কত পদ খালি রয়েছে, সমস্ত মন্ত্রকের কাছে তা জানতে চেয়েছে পিএমও।
সরকারি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এক দফা বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফের আলোচনা হওয়ার কথা। কী ভাবে নতুন চাকরি তৈরির ভিত গড়া যায় তা নিয়ে নীতি আয়োগ, অর্থ মন্ত্রক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক এবং পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মন্ত্রকের কর্তারা পিএমও-র সামনে ‘প্রেজেন্টেশন’ দিয়েছেন।
নীতি আয়োগ যেমন পিএমও-কে জানিয়েছে, ছোট-মাঝারি শিল্পে কাজ তৈরি হয় ভারী শিল্পের চেয়ে বেশি। চাকরি তৈরি হয় খনি ও বিদ্যুৎ পরিষেবায়। এই সব ক্ষেত্রে লগ্নি টানতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে তারা। বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ রফতানি। এই ক্ষেত্রে কর ফেরতের দাবি দ্রুত মেটানোর জন্য একটি প্রকল্প তৈরির সুপারিশ করেছে তারা। সরকারের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘মন্ত্রকের সচিবদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে লক্ষ্য পূরণ করতে জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ বাজেটে তাঁরা কতখানি অর্থ বরাদ্দ আশা করছেন।’’
তবে যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, বেসরকারি ক্ষেত্রে যে শুরুতেই দ্রুত চাকরি হবে না তা ভালই জানে মোদী সরকার। আর সে কারণেই আগে সরকারি চাকরির শূন্যপদগুলি পূরণ করতে চাইছে তারা। তারই হিসেব চাওয়া হয়েছে। হিসেব চূড়ান্ত হলে কর্মিবর্গ দফতর ও স্টাফ সিলেকশন কমিশন নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে কেন্দ্র। আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক পদ পূরণের কাজ শুরু হবে।
এর আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন বলেছিলেন, দেশের মানুষ চাকরি চান। সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে। সেটাই প্রথম কাজ। যে তরুণ প্রজন্ম দেশের সম্পদ হতে পারে, তা যেন ‘অভিশাপ’ না হয়ে দাঁড়ায়। যাঁরা স্কুল-কলেজ থেকে বেরোচ্ছেন, কৃষি ক্ষেত্র ছেড়ে আসছেন, তাঁরা যেন চাকরির সুযোগ পান।
সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকের মতে, এ কথা মোদী সরকারও বিলক্ষণ জানে। প্রত্যেক মাসে কাজের বাজারে পা রাখেন দেশের বিরাট সংখ্যক তরুণ-তরুণী। তাঁদের স্বপ্নপূরণ না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তৈরি হতে পারে সামাজিক অস্থিরতাও। সেটাও ভাল মতোই জানে কেন্দ্র। সে কারণে দ্বিতীয় দফায় শুরু থেকেই কাজ তৈরিতে ঝাঁপাতে চাইছে তারা।