ইরান যুদ্ধের জেরে বাড়ছে জ্বালানির দাম। ঊর্ধ্বমুখী মুদ্রাস্ফীতির সূচক। এই পরিস্থিতিতে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। ফলে গৃহঋণের গ্রাহকেরা যে বেজায় স্বস্তি পেয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। শুধু তা-ই নয়, কম সুদে বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনার ঋণ দিচ্ছে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক। এই প্রতিবেদনে তার হদিস দিল আনন্দবাজার ডট কম।
সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে গৃহঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহক স্থায়ী অথবা ভাসমান সুদে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার টাকা ধার নিতে পারেন। দ্বিতীয়টির সঙ্গে আরবিআইয়ের রেপো রেট সরাসরি সম্পৃক্ত। অর্থাৎ কেন্দ্রের ব্যাঙ্কের বেঞ্চমার্কের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলে বৃদ্ধি পায় গৃহঋণের ভাসমান সুদের হার। হ্রাস পেলে কমে যায় সেটি।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, চলতি মাসে আরবিআইয়ের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের সুদে হয়নি কোনও বড় বদল। দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় (এসবিআই) গৃহঋণে সুদের হার ৭.২৫ শতাংশে ঘোরাফেরা করছে। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) ও ব্যাঙ্ক অফ বরোদা থেকে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার টাকা নিলে ৭.২০ শতাংশ হারে গুনতে হবে সুদ।
এই তালিকায় নাম আছে কানাড়া ব্যাঙ্ক ও ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার। এই দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুদের হার তুলনামূলক কম। বর্তমানে সেটা ৭.১৫ এবং ৭.১০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির গৃহঋণে সুদের হার তুলনামূলক ভাবে বেশি। উদাহরণ হিসাবে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, আইডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং ফেডারেল ব্যাঙ্কের কথা বলা যেতে পারে।
বর্তমানে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ঋণে এইচডিএফসি এবং আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের সুদের হার ৭.৭৫ শতাংশে ঘোরাফেরা করছে। বার্ষিক আট শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক। কোটাক মাহিন্দ্রা এবং ফেডারেল ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ৭.৬০ শতাংশ এবং ৭.৩০ শতাংশ বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছা করলে আবাসনে অর্থপ্রদানকারী সংস্থা (পড়ুন হাউজ়িং ফিন্যান্স) থেকেও ঋণ নিতে পারেন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে এইচডিএফসি হাউজ়িং ফিন্যান্স, বজ়াজ হাউজ়িং ফিন্যান্স, পিএনবি হাউজ়িং ফিন্যান্স এবং আধার হাউজ়িং ফিন্যান্সের। এদের বার্ষিক সুদের হার যথাক্রমে ৭.১৫, ৭.২৫, ৭.৭৫ এবং ৮.২৫ শতাংশ।
গৃহঋণের সুদ বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে আবেদনকারীর সিবিল স্কোর অন্যতম। সেটা ভাল হলে কম সুদের হারে ঋণ পেতে পারেন গ্রাহক। কিন্তু, সিবিল স্কোর খারাপ হলে সুদের হার চড়িয়ে গৃহঋণের টাকা আবেদনকারীদের দিয়ে থাকে ব্যাঙ্ক বা হাউজ়িং ফিন্যান্স সংস্থা। আর তাই এই প্রতিবেদনে দেওয়া সুদের অঙ্ক স্বতঃসিদ্ধ নয়।