ভারত, আমেরিকা— দুই দেশই মুখে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ সেরে ফেলার কথা বলছে। কিন্তু ভারত-সহ ৫৪টি দেশে শ্রমিকদের জোর করে খাটিয়ে সস্তায় পণ্য তৈরির অভিযোগ নিয়ে যে তদন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন করছে, তার উপরে নির্ভর করে রয়েছে বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ।
মঙ্গলবার থেকে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিরের নেতৃত্বে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দু’দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশেরই বক্তব্য, বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সোমবার গয়াল বলেছিলেন, ২৪ জুলাইয়ের আগে তিনি প্রথম দফার বাণিজ্য চুক্তি সই করে ফেলতে চান। কারণ আপাতত আমেরিকা বাণিজ্য শরিকগুলির উপরে যে মাত্র ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে, তার মেয়াদ ২৪ জুলাই শেষ হচ্ছে। এ দিন বৈঠকের শেষে গয়াল এক্স-এ লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির যৌথ বিবৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারসাম্যযুক্ত এবং উভয়ের পক্ষে লাভজনক চুক্তির লক্ষ্যে ফলপ্রসূ আলোচনাচালাচ্ছি আমরা।’ ঘটনা হল, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারত আমেরিকার থেকে শুল্ক ও অন্যান্য মাপকাঠিতে বাড়তি সুবিধা চাইছে। শিল্পমহলের মতে, সেই সুবিধা পেলেই চুক্তি করা উচিত। কিন্তু আমেরিকা ভারত-সহ ৫৪টি দেশের বিরুদ্ধে যে তদন্ত চালাচ্ছে তার ফল কী হবে, তা বোঝা না গেলে বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হবে না।
কেন? বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রের ব্যাখ্যা, জেমিসন গ্রিরের দফতরই আমেরিকার বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় ভারতের মতো দেশগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। আমেরিকা মনে করছে, এই দেশগুলিতে শ্রমিকদের জোর করে খাটিয়ে সস্তায় পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই এ সব দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে রাশ টানা উচিত। এই দেশগুলির উপরে ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাবও রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।
এর আগে আমেরিকা ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ জরিমানা চাপিয়ে রেখেছিল। সেই জরিমানা তুলে নিয়ে শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তার পরে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই শুল্ক বেআইনি বলে তকমা দেওয়ায় আপাতত অস্থায়ী ভাবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১০শতাংশ শুল্ক রয়েছে।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে ভারত যতখানি আমদানি করে, তার থেকে বেশি রফতানি করে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করে আমেরিকা এই ফারাক কমাতে চায়। তবে আমেরিকার থেকে ভারত তেল, গ্যাস আমদানি বাড়ানোয় এবং শুল্কের ফলে রফতানি কমায় ইতিমধ্যেই সেই ফারাককমে এসেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)