Advertisement
E-Paper

জিএসটি নিয়ে তরজা বহাল কেন্দ্র-রাজ্যের

নোট বাতিলের এই ডামাডোলের বাজারে জিএসটি নিয়ে তড়িঘড়ি এগোনো কতটা উচিত হবে, তা নিয়ে দিন কয়েক আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। শুক্রবার এ বিষয়ে তিনি পাশে পেলেন কেরলের বাম সরকারের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক-কে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৩:৪০

নোট বাতিলের এই ডামাডোলের বাজারে জিএসটি নিয়ে তড়িঘড়ি এগোনো কতটা উচিত হবে, তা নিয়ে দিন কয়েক আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। শুক্রবার এ বিষয়ে তিনি পাশে পেলেন কেরলের বাম সরকারের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক-কে। সংসদের মতো জিএসটি পরিষদেও এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য অন্যান্য রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন তাঁরা। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির দাবি, ‘‘সেপ্টেম্বর থেকে জিএসটি চালু করা সাংবিধানিক ভাবে বাধ্যতামূলক। কারণ সংবিধান সংশোধন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি জিএসটি কার্যকর না হয়, তা হলে তার পরে দেশে কর ব্যবস্থাই থাকবে না। তাই ১ এপ্রিল থেকে জিএসটি চালু করতে চাই।’’

দিল্লিতে এ দিন শুরু হওয়া জিএসটি পরিষদের বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্যের মত মেলেনি করদাতাদের উপর কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা নিয়েও।

করদাতাদের উপর দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বৈঠকে ওই সব রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা জানান, দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যবসায় রাজ্যগুলির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। কিন্তু কেন্দ্র তাতে রাজি নয়। তাদের প্রস্তাব, করদাতাদের একাংশ কেন্দ্রের অধিকারে থাক, বাকিটা রাজ্যের। আগে এ নিয়ে ফয়সালা না হলে, জিএসটি আইন নিয়ে আলোচনাতেই রাজি নয় দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, কেরলের মতো রাজ্যগুলি। তা সত্ত্বেও শনিবার অবশ্য দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ ও আইজিএসটি নিয়ে আলোচনা হবে। শেষমেশ বিষয়টি ভোটাভুটির দিকেও যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। যদিও তামিলনাড়ু, কেরলের অর্থমন্ত্রীরা বলেছেন, ভোট করে কেন্দ্র নিজেদের মতামত চাপালে যে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর কথা কেন্দ্র বলছে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। জিএসটি কাউন্সিলের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি, নোট বাতিলের ফলে রাজ্যগুলির রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেও সরব হতে চাইছেন অমিত-আইজ্যাকরা। আগের দিনই অমিতবাবুর যুক্তি ছিল, তাঁরা জিএসটি-র বিরুদ্ধে নন। কিন্তু নোট বাতিলের ফলে ব্যবসায় ধাক্কা লাগায় রাজ্যগুলির কর আদায় কমে যাচ্ছে। জিএসটি চালু হলে এমনিতেই অর্থনীতিতে একটা সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হবে। তাই একসঙ্গে দুই ধাক্কা সামলানো যাবে কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা দরকার। এ দিন কেরলের অর্থমন্ত্রীও বলেন, ‘‘রাজ্যের রাজস্ব আয় ধাক্কা খাচ্ছে। আমি জিএসটি-র বিরোধিতা করতে চাই না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী যা বলছেন, তার মধ্যে যুক্তি রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে একই অবস্থান নেব।’’

দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতানৈক্য ও নোট বাতিলের ধাক্কার জেরে জিএসটি পরিষদের এই বৈঠকেও ঐকমত্য তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এই আলোচনায় জিএসটি পরিষদকে কেন্দ্রীয় জিএসটি আইন, আন্তঃরাজ্য জিএসটি ও রাজ্য জিএসটি মডেল আইনের খসড়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিষদের সিলমোহর পেলে প্রথম দু’টি বিল সংসদের চলতি অধিবেশনে পাশ করানো সম্ভব। তবেই ১ এপ্রিল জিএসটি চালু করা যাবে।

পরিষদের বৈঠকের আগে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের উপর চাপ তৈরি করতে জেটলি অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকে জিএসটি চালু করা সাংবিধানিক ভাবে বাধ্যতামূলক। নইলে দেশে কর ব্যবস্থাই থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গের নাম না করেও, তিনি বলেন, ‘‘যদি দেখা যায় কোনও রাজ্য সংস্কারের বিরুদ্ধে, তা হলে লগ্নিকারীরা তার সম্পর্কে চিন্তিত হবে।’’ যা শুনে তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘জিএসটি নিয়ে জ্ঞান শোনার প্রয়োজন নেই। বিজেপিই এতদিন তার বিরোধিতা করেছে।’’

GST Bill West bengal government Central Government
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy