বৃদ্ধির হার গোত্তা খাওয়া সত্ত্বেও আপাতত সুদ কমানোর পথে হাঁটল না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু তেমনই গৃহঋণে ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে তাতে সুদ কমানোর রাস্তা খুলে দিল তারা।

একই সঙ্গে, সরকারি ঋণপত্রে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে যে-টাকা বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতেই হয়, সেই বিধিসম্মত নগদ জমার অনুপাত (এসএলআর) ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। ২০.৫% থেকে নামিয়ে এনেছে ২০ শতাংশে। যাতে বাজারে নগদের জোগান বাড়ে।

বুধবার রেপো রেট (রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে সুদে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্প মেয়াদে ধার দেয়) এবং রিভার্স রেপো রেট (বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে শীর্ষ ব্যাঙ্ক যে সুদে ধার নেয়) অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋণনীতি কমিটি। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির দাবি, তা সত্ত্বেও আগামী দিনে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে নেওয়া ধারে সুদ কমার সম্ভাবনা।

কারণ, ৩০ লক্ষ টাকার বেশি গৃহঋণে ঝুঁকির মাত্রা কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ৭৫ লক্ষের বেশি ধারে তা ৭৫% থেকে কমে হচ্ছে ৫০%। আর ৩০ থেকে ৭৫ লক্ষের গৃহঋণে তা নেমে আসছে ৩৫ শতাংশে। স্টেট ব্যাঙ্কের কর্ণধার অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের দাবি, এতে সুদ কমানোর জন্য বাড়তি মূলধন আসবে ব্যাঙ্কের হাতে। আর পটেলের দাবি, বৃদ্ধিকে চাঙ্গা করতে এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্যোগ।

গৃহঋণে সুদ কমলেও, তা নামছে না গাড়ি কিংবা শিল্পঋণের ক্ষেত্রে। ফলে শীর্ষ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তে হতাশা উগরে দিয়েছে কেন্দ্র। মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন বলেন, যে দেশে আর্থিক বৃদ্ধি দু’বছরে সব চেয়ে নীচে আর ঋণবৃদ্ধি ২৫ বছরের তলানিতে, সেখানে সুদ ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, মূল্যবৃদ্ধি এখন নিয়ন্ত্রণে তো বটেই, তার লক্ষ্যমাত্রাও বহু দূরে। এই পরিস্থিতিতে সুদ ছাঁটাইয়ের জমি তৈরি ছিল বলেই তাঁর অভিমত।

শীর্ষ ব্যাঙ্কের ঘোষণায় হতাশ শিল্পমহলও। তাদের বক্তব্য, বৃদ্ধির হার ধাক্কা খেয়েছে। আগামী দিনে বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছাঁটাই করেছে খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্কই। এই মুহূর্তে মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে। কমেছে তার পূর্বাভাস। এমন ‘সোনার সুযোগ’ হাতে থাকা সত্ত্বেও আরবিআই কেন সুদ কমানোর পথে হাঁটল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিল্পমহল ও বণিকসভাগুলি। শীর্ষ ব্যাঙ্ক অবশ্য জানিয়েছে, আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির গতিপথ আর একটু দেখার আগে সুদ কমাতে চায় না তারা।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এ দিন সুদ ছাঁটাই করেনি ঠিকই। কিন্তু জানিয়েছে, অর্থবর্ষের প্রথম ভাগে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়াবে ২ থেকে ৩.৫%। আগে যা ছিল ৪.৫%। একই ভাবে দ্বিতীয়ার্ধেও তা ৫% থেকে নেমে আসবে ৩.৫-৪.৫ শতাংশে। ফলে আগামী দিনে তারা সুদ কমানোর ইঙ্গিত কিছুটা দিয়ে রাখল বলেই ধারণা অনেকের। তবে কেন্দ্রের ‘মুখ বাঁচিয়ে’ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এ দিন জানিয়েছে, নোট নাকচের জেরে বৃদ্ধি ধাক্কা খায়নি। অর্থনীতির হাল টাল খেয়েছিল তার আগেই।

 

খতিয়ান

• রেপো রেট অপরিবর্তিত (৬.২৫%)

• বদলায়নি রিভার্স রেপো রেটও (৬%)

• এসএলআর কমলো ৫০ বেসিস পয়েন্ট

• বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.৪% থেকে কমে ৭.৩%

• অর্থবর্ষের প্রথম ভাগে ২-৩.৫%, দ্বিতীয় ভাগে ৩.৫-৪.৫% মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত

• মূল্যবৃদ্ধিতে ছাপ ফেলবে না জিএসটি

• বেসরকারি লগ্নি বাড়াতে জোর

• ব্যাঙ্কের স্বাস্থ্য ফেরাতে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করবে শীর্ষ ব্যাঙ্ক

• ঋণনীতি কমিটির পাঁচ সদস্যের রায় সুদে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে, ভিন্নমত একজন

• পরের বৈঠক শুরু ১ অগস্ট