এক বছরের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার কেনা স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সেই আবেদনের দেড় মাসের মাথায় অনেকটাই নামল হলুদ ও সাদা ধাতুর দাম। এর জেরে বিয়ের মরসুমে চার হাত এক হতে চলা যুবক-যুবতীর মুখের হাসি যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। অন্য দিকে দর কমায় মাথায় হাত পড়েছে লগ্নিকারীদের।
চলতি বছরের ১০ মে একটি জনসভা থেকে আমজনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘‘আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে হবে। আর তাই আগামী এক বছরের জন্য সোনা-রুপোর গয়না বা বার কেনা থেকে দূরে থাকুন।’’ তাঁর ওই ভাষণের পর গত দেড় মাসে প্রতি ১০ গ্রামে ১৩,০০০ টাকার বেশি কমেছে হলুদ ধাতুর দর। পাশাপাশি, কেজিপ্রতি ৪৬,০০০ টাকা হ্রাস পেয়েছে সাদা ধাতুর দাম।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ইতিমধ্যেই একটি বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছে ইন্ডিয়ান বুলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, গত ১০ মে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম ছিল ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৪০ টাকা। ২৮ জুন সেটাই ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৭৩ টাকায় নেমে আসে। উল্লেখ্য, ২৪ ক্যারেট হলুদ ধাতুকেই সর্বাধিক বিশুদ্ধ বলে ধরা হয়ে থাকে।
একই ছবি রুপোর ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে। মোদীর ভাষণের দিন প্রতি কেজি সাদা ধাতু বিক্রি হচ্ছিল ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৫০ টাকায়। ২৮ জুন সেটা ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫৪১ টাকায় চলে এসেছে। অর্থাৎ গত দেড় মাসে এই দুই দামি ধাতুর দাম যথাক্রমে ১৩ হাজার ২৬৭ এবং ৪৫ হাজার ৮০৯ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
পর্যবেক্ষক মহলের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে কিছুটা বাধ্য হয়েই দেশবাসীর কাছে ওই আবেদন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে হু-হু করে বেড়েছে জ্বালানির দর। অন্য দিকে ডলারের নিরিখে ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে টাকার মূল্য, যা আর্থিক দিক থেকে যথেষ্টই উদ্বেগজনক।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভৌত সোনা ব্যবহারের নিরিখে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির তালিকায় নাম রয়েছে ভারতের। এখানে অলঙ্কার শিল্পের একটা বিশাল বাজার রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে হলুদ ধাতু আমদানি করে থাকে নয়াদিল্লি। আমজনতা গয়না কেনা কমালে সেই খরচ অনেকটাই কমতে পারবে কেন্দ্র। তাই ওই আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর আর্জির কয়েক দিনের মাথায় সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে কেন্দ্র। ছয় থেকে বেড়ে একলাফে সেটা পৌঁছে যায় ১৫ শতাংশে। এই সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁদের যুক্তি ছিল এর জেরে ১০-১৫ শতাংশ কমবে হলুদ ধাতুর আমদানি। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে গয়না ব্যবসায়। তবে এর জেরে বিয়ের মরসুমে হলুদ ধাতুর দর কমায় অলঙ্কারের বিক্রি বৃদ্ধি পায় কি না, সেটাই এখন দেখার।