পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশায় যে দিন ফের উত্থানের মুখ দেখল শেয়ার বাজার, সে দিনই ডলারের সাপেক্ষে আরও তলিয়ে গেল টাকার দাম। বুধবার এই প্রথম ডলার থামল ৯৩.৯৬ টাকা। মঙ্গলবারের তুলনায় বাড়ল ২০ পয়সা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নীচে নেমে আসা, শেয়ার সূচকের উত্থান— এর কোনও কিছুই উৎসাহ জোগাতে পারেনি টাকার দামে। বরং তা এতটা নীচে নেমে যাওয়ায় ভারতের আমদানির খরচ আরও চড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। যা রাজকোষ ঘাটতির হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারে। চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধির হারও। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর জেরে এপ্রিলের ঋণনীতিতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের চিন্তা বাড়বে। বুধবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০৩১ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্য বর্তমান ৪ শতাংশে (+/-২%) বেঁধে রাখার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। ফলে সুদ কমার সম্ভাবনা তো নেই-ই। উল্টে তা বাড়ানো হবে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ দিন সেনসেক্স অবশ্য বেড়েছে আরও ১২০৫ পয়েন্ট। থেমেছে ৭৫,২৭৩.৪৫ অঙ্কে। নিফ্টি ৩৯৪.০৫ পয়েন্ট উঠে হয়েছে ২৩,৩০৬.৪৫। মঙ্গলবার সূচক দু’টি উঠেছিল যথাক্রমে ১৩৭২.০৬ এবং ৩৯৯.৭৫ পয়েন্ট। যার হাত ধরে এই দুই দিনে বিএসই-র লগ্নিকারীরা ফিরে পেয়েছেন ১৫.৮ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার সম্পদ।
পটনা আইআইটি-র অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিকের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আশার আলো দেখা গেলেও, তা পুরো শেষ হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বার্তা মিলছে না। যার প্রভাব টাকার দরে পড়ছে। যা অবস্থা, তাতে অর্থনীতির বিভিন্ন দিক বিচার করলে ঋণনীতিতে সুদ বাড়ানোর পথেই শীর্ষ ব্যাঙ্কের হাঁটার কথা। কিন্তু তাতে ধাক্কা খাবে আর্থিক বৃদ্ধির গতি। ফলে আরবিআই-এর সামনে চ্যালেঞ্জ থাকছে।
বাজার বিশেষজ্ঞ কমল পারেখের বক্তব্য, ‘‘লগ্নিকারীদের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ হবে বলে আশা তৈরি হয়েছে। তাই সূচক উঠছে। তবে যে লোকসান ইতিমধ্যেই হয়েছে, তা পূরণ করতে মাস ছয়েক সময় লাগতে পারে। তত দিন বাজার অস্থির থাকবে।’’ তাঁর আরও দাবি, সূচক যেখানে উঠেছিল, এই সুযোগে তার সংশোধন হয়েছে। সেটা বাজারের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল।
সারাদিনে বাজার
২০ পয়সা বেড়ে ডলার পৌঁছল ৯৩.৯৬ টাকায়। তৈরি করল নতুন নজির।
সেনসেক্স ১২০৫ পয়েন্ট উঠে হল ৭৫,২৭৩.৪৫।
নিফ্টি ৩৯৪.০৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৩০৬.৪৫।
দু’দিনের উত্থানে বিএসই-র লগ্নিকারীরা ফিরে পেলেন মোট ১৫.৮ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার সম্পদ।
বুধবার বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি বেচেছে ১৮০৫.৩৭ কোটির শেয়ার।
দেশীয় সংস্থাগুলি কিনেছে ৫৪২৯.৭৮ কোটির।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)