নাগাড়ে গাড়ি বিক্রি কমছে। কোপ পড়ছে কাজে। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার ফের শিল্প মহলের হুঁশিয়ারি, অবস্থার উন্নতি না-হলে আরও কর্মী চাকরি হারাবেন। আর এ দিনই কঠিন পরিস্থিতির কথা কার্যত কবুল করে গাড়ি সংস্থাগুলির সংগঠন সিয়ামের বার্ষিক সভায় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর আশ্বাস, শিল্পের সব দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

শুধু তাই নয়, অতীতে বৈদ্যুতিক গাড়ির পক্ষে জোরালো সওয়াল করা এই গডকড়ীরই এ দিন স্পষ্ট বার্তা, পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ি বন্ধের কোনও পরিকল্পনাই নেই তাঁদের।

সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, অর্থমন্ত্রী  নির্মলা সীতারামন গাড়ি শিল্পের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণার পরে, আরও এক মন্ত্রীর এমন আশ্বাস তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন, সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছে বুঝেই কি ফের সাহায্যের এই বার্তা? একই সঙ্গে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা বৈদ্যুতিক গাড়ি আনা নিয়ে?

সিয়ামের আর্জি 

                                        
• গাড়ির কর কমুক।
• একটি মাত্র নোডাল মন্ত্রক হোক।

কবুল গডকড়ীর


• বিক্রি বাড়াতে সত্যি সাহায্য জরুরি।
• জিএসটি সাময়িক ভাবে কমলে চাহিদা চাঙ্গা হতে পারে।

সেই সঙ্গে আশ্বাসও

• অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সিয়ামের আর্জি নিয়ে কথা বলবেন।
• বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো হাইব্রিডেও জিএসটি হ্রাসের প্রস্তাব দেবেন।
• আলোচনা করবেন গাড়ির রফতানি বাড়াতে আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে।
• বাণিজ্যিক গাড়ির 
চাহিদা বাড়াতে তিন মাসে ৫ লক্ষ কোটির ৬৮টি সড়ক প্রকল্পের সূচনা করবেন। 
• পুরনো গাড়ি বাতিলের নীতি আনার ব্যবস্থা করবেন দ্রুত।

গাড়ি শিল্পে ৩.৫ লক্ষ কাজ গিয়েছে। সিয়ামের প্রেসিডেন্ট রাজন ওয়াধেরার দাবি, জিএসটি না কমালে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। তাঁদের যুক্তি, বিএস-৬ দূষণ বিধি মেনে গাড়ি তৈরি করলে তা এমনিতেই দামি হবে। ফলে কর কমলে কেন্দ্রের আয় ধাক্কা খাবে না। এ ব্যাপারে গডকড়ী জানান, এই পরামর্শ ‘ভাল’। তবু ভয় কাটছে না। মহীন্দ্রার এমডি পবন গোয়েন্‌কা জানান, এ বছর ১,০০০ কোটি লগ্নির পরিকল্পনা পিছোচ্ছেন তাঁরা। টাটা মোটরস এমডি গুয়েন্টার বুশেকের মতে, ভারতে গাড়ি শিল্পের বৃদ্ধির ছবিটা প্রায় মুছে যাওয়ার মুখে। 

  প্রসঙ্গ বৈদ্যুতিক গাড়ি

(৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭)
 ‘দূষণ ও আমদানি খরচ কমাতে বিকল্প জ্বালানির গাড়িই চালাতে হবে সংস্থাগুলিকে। আপনারা পছন্দ করুন বা না-করুন, এটা আমরা করব, জোর করে হলেও।’ 
  (৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)
‘কেন্দ্র পেট্রল-ডিজেলের গাড়ি নিষিদ্ধ করবে বলে চর্চা চলছে। স্পষ্ট করতে চাই, এমন পরিকল্পনা নেই।’ 

নিতিন গডকড়ী
কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী

২০৩০-এর মধ্যে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোর কথা বলে অতীতে শিল্প মহলে সংশয় তৈরি করেছিলেন একাধিক মন্ত্রী। এপ্রিল থেকে সংস্থা যে বিএস-৬ গাড়ি তৈরি করবে সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই সংশয়ই এ দিন ওড়ালেন গডকড়ী।