E-Paper

যুদ্ধে সমস্যা তৈরি হলেও দেশে এখনই বাড়ছে না তেলের দাম, দাবি সরকারি সূত্রের

সূত্র জানাচ্ছে, কেন্দ্র পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। এখনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলছে। তেল-গ্যাস আমদানির বিকল্প রাস্তাও দেখা হচ্ছে। তবে এ দিন বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে এক সময়ে ৮৫ ডলার ছাড়িয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:১০

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে তেল-গ্যাস নিয়ে আশঙ্কা বাড়লেও, এখনই ভারতের চিন্তার কিছু নেই বলে সোমবার জানিয়েছিলেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রের খবর, দেশের হাতে ২৫ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো অশোধিত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, রয়েছে ২৫ দিনের পেট্রল-ডিজ়েল এবং ২৫-৩০ দিনের মতো রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সম্ভারও। ফলে জ্বালানির দিক দিয়ে বেশ ভাল জায়গায় রয়েছে ভারত। যে কারণে এখনই দেশের বাজারে তেলের খুচরো দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।

ওই সূত্র জানাচ্ছে, কেন্দ্র পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। এখনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলছে। তেল-গ্যাস আমদানির বিকল্প রাস্তাও দেখা হচ্ছে। তবে এ দিন বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে এক সময়ে ৮৫ ডলার ছাড়িয়েছিল। ফলে বেশি দিন ধরে যুদ্ধ চললে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। বিশেষত যখন এ দিনই ভারতের শিল্প মহলের জন্য তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি ৪০% কমানোর কথা ঘোষণা করেছে কাতার। সেই গ্যাস সার, বিদ্যুৎ শিল্প থেকে শুরু করে গাড়ি এবং গৃহস্থের বাড়িতে রান্নার কাজেও ব্যবহার হয়। ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বড় গ্যাস উৎপাদক কাতার এনার্জি নিজেদের উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি ঘোরালো হচ্ছে।

আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের মধ্যে সরু সমুদ্র প্রণালী দিয়েই বিশ্বের অধিকাংশ তেল আমদানি-রফতানি হয়। সারা পৃথিবীর ২০% জ্বালানি যাতায়ত করে এই পথে। ভারতের আমদানি করা তেলের প্রায় ৫০% আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। আবার এ দেশের এলএনজি চাহিদার প্রায় ৬০% আমদানি হয় এই প্রণালীর মাধ্যমে। ফলে হরমুজ বন্ধের আশঙ্কায় পেট্রোপণ্যের সরবরাহে ধাক্কা ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিশ্ব জুড়ে।

সরকারি সূত্রের যদিও দাবি, সাধারণত ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো পেট্রোপণ্য থাকলে চিন্তা কম থাকে। পশ্চিম এশিয়ার বিকল্প পথে তেল-গ্যাস আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এখনও রাশিয়া থেকে ১০.৪ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করছে ভারত। ভারতকে জ্বালানি জোগাতে তৈরি বলে জানিয়ে রেখেছে রাশিয়াও। দু’তিন সপ্তাহের এলএনজি-ও মজুত রয়েছে। ফলে জ্বালানি সুরক্ষার দিক দিয়ে ভাল জায়গায় দাঁড়িয়ে দেশ। যে কারণে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা আপাতত নেই। এ দিকে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবায় ধাক্কা লেগেছে যুদ্ধের কারণে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে কত পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা জানাতে বলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Oil gas

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy