Advertisement
E-Paper

বয়সের ঘড়ি উল্টো দিকে ঘোরাবে মস্তিষ্কের প্রোটিন? নতুন গবেষণা কি তরুণ থাকার ইচ্ছেয় ইন্ধন জোগাচ্ছে?

বৃদ্ধ হলেও আয়নায় নিজেকে বুড়োটে দেখতে চান না অধিকাংশে। তাঁরা চান ত্বকে বলিরেখা খুব স্পষ্ট না হোক। ঝুলে না পড়ুক চেখের নীচের চামড়া। গাঁটে গাঁটে ব্যথা না হোক। চনমনে থাকুক শরীর। সেই সব ইচ্ছের পালে হাওয়া দিতে পারে এক নতুন আবিষ্কার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১৮:০৫

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দুনিয়ার একটা অংশ বার্ধক্যকে সাদরে গ্রহণ করে। ‘গ্রেসফুল এজিং’-এর বিজ্ঞাপন করে। তবে সেই অংশটি সংখ্যায় কম। বৃদ্ধ হলেও আয়নায় নিজেকে বুড়োটে দেখতে চান না অধিকাংশে। তাঁরা চান ত্বকে বলিরেখা খুব স্পষ্ট না হোক। ঝুলে না পড়ুক চেখের নীচের চামড়া। চুলের রেখা পাতলা হওয়াও যাবে না। গাঁটে গাঁটে ব্যথা না হোক, চনমনে থাকুক শরীর। সেই সব ইচ্ছের পালে হাওয়া দিতে পারে এক নতুন আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন মানুষের মস্তিষ্কে থাকা এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন শরীরে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে পারে।

বার্ধক্য ঠেকানোর প্রোটিন

মস্তিষ্কের ওই বিশেষ প্রোটিনের নাম ‘মেনিন’। বিজ্ঞানীদের দাবি, ওই প্রোটিন শুধু বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে মন্থর করে তা নয়, তেমন তেমন পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের ঘড়িকে উল্টো দিকে ঘুরিয়েও দিতে পারে। ফিরিয়ে আনতে পারে যৌবন। অন্তত তেমনই ধারণা করছেন গবেষকেরা। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে প্রথম সারির বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ‘পিএলওএস বায়োলজি’তে। তাতেই জানা গিয়েছে সমস্ত তথ্য।

গবেষণাটি করেছেন চিনের শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিজ লেং এবং তাঁর সহযোগীরা। তবে ওই গবেষণা মানুষের উপর করা হয়নি। মূলত ইঁদুরের উপরেই গবেষণাটি চালিয়ে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকেরা।

কী ভাবে কাজ করে মেনিন?

বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে ‘মেনিন’ প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ বেড়ে যায়। যা স্মৃতিশক্তি হ্রাস করা, হাড়ের ক্ষয় এবং বার্ধক্যজনিত আরও নানা জটিলতা ত্বরান্বিত করে। কিন্তু যদি ওই প্রোটিন বেশি থাকে তবে তা বার্ধক্য রোধক বা ‘অ্যান্টি-এজিং’ ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে।

এই প্রোটিন কি সত্যিই কার্যকরী?

পুষ্টিবিদ এডউইনা রাজ মনে করেন, মেনিনের সঙ্গে শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ার সম্পর্ক আছে। তিনি বলছেন, ‘‘মেনিন হলো মানবদেহের একটি জিন থেকে তৈরি প্রোটিন। এটি কোষের বৃদ্ধি, পুনর্গঠন এবং মস্তিষ্কের নিউরনের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহে মেনিন প্রোটিনের মাত্রা কমতে থাকে, যা সরাসরি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মনোযোগের উপর প্রভাব ফেলে।’’ তবে গোটা বিষয়টিই প্রাকৃতিক ভাবে বাড়ে কমে। বাইরে থেকে তা প্রয়োগ করা হলে কতটা কাজ করবে, তা আরও গবেষণা এগোলে বোঝা যাবে।

কী ভাবে মেনিন প্রোটিন বৃদ্ধি করা যায়?

সরাসরি কোনও খাবার খেয়ে ওই প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি সম্ভব নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক প্রোটিন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে পারে। এ জন্য দৈনিক খাদ্যতালিকায় ডাল, ডিম, মাছ, মাংস, পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার এবং উপকারী ফ্যাট রাখা জরুরি। এ ছাড়া, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও বার্ধক্য দূরে থাকবে বলে মনে করেন গবেষক এবং পুষ্টিবিদেরা।

Anti Ageing Anti Ageing Hacks Protein
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy