রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ কমানোর পরে এ দফায় বেশ তাড়াতাড়িই নতুন সুদের হার ঘোষণা করেছে ব্যাঙ্কগুলি। কিন্তু যে সুদ তারা কমিয়েছে, তা প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কম বলে ব্যাঙ্কগুলিকে জানিয়ে দিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে বিবৃতি দিয়ে গভর্নরের এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। 

বিগত কয়েক মাসে দেশের ব্যাঙ্কিং শিল্প যে আগের সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও বার হয়ে আসতে পেরেছে, বৈঠকে তা স্বীকার করেছেন শক্তিকান্ত। কিন্তু একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি জায়গায় এখনও সমস্যা কাটেনি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে যে দ্রুত ঋণ মঞ্জুর হওয়া প্রয়োজন তা-ও জানান তিনি। নজর দিতে বলেছেন অনুৎপাদক সম্পদ কমানো ও আমানত বৃদ্ধির দিকেও। 

গত তিনটি ঋণনীতিতে মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু অনেকের মতে, ব্যাঙ্কগুলি সেই তুলনায় সুদ কমায়নি। জুনের ঋণনীতির পরে শক্তিকান্ত নিজেই জানিয়েছিলেন যে, শীর্ষ ব্যাঙ্ক ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমালেও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি কমিয়েছে ২১। এ দফাতেও ব্যাঙ্কগুলি এখনও পর্যন্ত ৫-১০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে। বৈঠকে সেই বিষয়টিই ফের উল্লেখ করেছেন শক্তিকান্ত। 

এ দিকে, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র যে সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলেছে, শনিবার এক কর্মসূচিতে তার উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। তাঁর মতে, এই অবস্থায় স্বচ্ছ ভাবে ঋণ দেওয়া এবং সেই ঋণের উপরে নজরদারি বাড়ানোও এখন ব্যাঙ্কগুলির কাছে বড় পরীক্ষা। ছোট-মাঝারি শিল্পকে ঋণ দিতে ৫৯ মিনিটের মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যবস্থা চালু করেছে মোদী সরকার। তবে গডকড়ী জানিয়েছেন, যাদের আয়কর এবং জিএসটি দেওয়ার রেকর্ড ভাল, তাদের তত তাড়াতাড়ি ঋণ মঞ্জুর করা হবে। এ ব্যাপারে ভূমিকা নিতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকেই।