ছুটি ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধা অপব্যবহারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ বার ব্যবস্থা নেবে এয়ার ইন্ডিয়া। এর জেরে ৪,০০০-এর বেশি কর্মী শাস্তির কোপে পড়তে চলেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। অচিরেই তাঁদের উপর নেমে আসতে পারে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া। দোষ প্রমাণিত হলে দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানাও। সর্ষের মধ্যে থাকা ভূত খুঁজে পেতে তদন্ত নেমেছে ঐতিহ্যবাহী টাটা গোষ্ঠীর এই বিমান পরিষেবা সংস্থা।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকেশ (ইন্টারনাল অডিট) করে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। তখনই ছুটি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসে তাদের। টাটা গোষ্ঠীর বিমান পরিষেবা সংস্থার কর্মীরা ছুটি ভ্রমণের সুবিধা পেয়ে থাকেন, যার পোশাকি নাম ‘এমপ্লোয়িজ় লেজ়ার ট্রাভেল’ বা ইএলটি। সেখানেই জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন:
নিয়ম অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা ইএলটিতে নিখরচায় বিমানযাত্রার বেশ কিছু ভাউচার পেয়ে থাকেন। এই সুবিধা স্বামী বা স্ত্রী এবং মা-বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে ভাউচার পেতে হলে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ দেখাতে হবে। অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকেশে দেখা গিয়েছে, সম্পর্কহীন বহু ব্যক্তির জন্য নিখরচার ভাউচার তুলেছেন সংস্থার অসাধু কর্মীরা। কারও কারও বিরুদ্ধে আবার পরিবারের সদস্যদের নামে ভাউচার নিয়ে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।
পিটিআই জানিয়েছে, চলতি বছরের ১২ মার্চ এই অনিয়ম সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট এয়ার ইন্ডিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়ে। এ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেয়নি টাটা গোষ্ঠীর ওই উড়ান সংস্থা। বর্তমানে তাদের মোট কর্মীসংখ্যা ২৪ হাজার। তার মধ্যে ৪,০০০ জন ইএলটি সুবিধার অপব্যবহার করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে চলা তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তদের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালের জানুয়ারিতে বিপুল লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে কিনে নেয় টাটা গোষ্ঠী। লেনদেন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এতে ব্যাপক সংস্কার শুরু করেছে তারা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কর্মীদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, ভ্রমণের ভাউচার বিক্রি করে অসাধু উপায়ে উপার্জিত অর্থ কর্মীদের ফেরত দিতে বলেছেন তাঁরা। আগামী দিনে এই ইস্যুতে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।