ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বসানো চড়া শুল্কে ধাক্কা খাচ্ছে রফতানি। এই পরিস্থিতিতে বস্ত্র শিল্পের সমস্যা ও অসুবিধার দিকে নজর দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘দুর্বলতা ঝেড়ে’ এগিয়ে আসার আহ্বান জানান লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার বস্ত্র রফতানিকারীদের রক্ষা করতে দ্রুত ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ করার দাবি জানিয়েছে তাদের সংগঠন এইপিসি-ও। তবে রাহুলকে তোপ দেগে বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ বলেন, ‘‘গত ১১ বছরে দেশের বস্ত্র রফতানি বেড়েছে এবং ৫ কোটি কাজ তৈরি হয়েছে। রাহুল যেন ‘ভুল তথ্য না ছড়ান’ এবং দেশের কাছে ক্ষমা চান।’’
শুক্রবার সমাজমাধ্যমে হরিয়ানার একটি বস্ত্র কারখানা প্রদর্শনের ভিডিয়ো তুলে ধরেন রাহুল। বলেন, ‘‘বস্ত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দক্ষতা স্বচক্ষে দেখেছি। তাদের প্রত্যাশার কথাও শুনেছি। ভারতের বস্ত্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ। ...অথচ আমেরিকার ৫০% শুল্ক ও তার জেরে তৈরি অনিশ্চয়তায় রফতানিকারীরা মার খাচ্ছেন। অনেকে কাজ হারাচ্ছেন। কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং বরাত কমছে। এটা আমাদের ‘মৃত অর্থনীতির’ বাস্তব ছবি।’’
রাহুলের আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শুল্কের সুরাহা তো করেনইনি, কোনও বক্তব্যও রাখেননি। এর ফলে ৪.৫ কোটি কাজ এবং লক্ষ-লক্ষ ব্যবসায়ী সঙ্কটে। তার উপরে ইউরোপে দাম কমছে, চিন ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মুখে ফেলছে ভারতের বস্ত্র শিল্পকে। রাহুলের দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতার কারণে অর্থনীতির ধাক্কা খাওয়া ঠিক নয়। ...মোদীজি, দয়া করে নজর দিন।’’
এর পরেই আক্রমণ করেন গিরিরাজ। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের এপ্রিল-ডিসেম্বরে বস্ত্র রফতানি ৯৫,০০০ কোটি টাকা। যা গত এপ্রিল-ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১.০২ লক্ষ কোটি। মন্ত্রীর তোপ, ‘‘আপনি (রাহুল) দেশে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। ...দেশের থেকে ক্ষমা চান, নয়তো নিজের বক্তব্য ফিরিয়ে নিন।’’ এইপিসি-র চেয়ারম্যান এ শক্তিভেলের যদিও দাবি, দেশের বহু বস্ত্র রফতানিকারীর ৭০% পণ্যই যায় আমেরিকায়। সেখানে চড়া শুল্কে ব্যবসা মার খাচ্ছে। অবিলম্বে সরকার হস্তক্ষেপ না করলে কাজ হারানো এবং বাজার দখল কমার আশঙ্কা রয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)