গাড়ির প্রতি তাঁর ভালবাসা ও দুর্বলতা সকলের জানা। অথচ প্রতিযোগিতায় জুঝে উঠতে না পেরে নিজেদের গাড়ি সংস্থার ক্রমশ পিছু হঠার দৃশ্য দেখতে হচ্ছে তাঁকে। গর্বের গায়ে এ ভাবে ব্যর্থর তকমা সেঁটে যাওয়া তাঁকে কতটা আঘাত করে, তা নিয়ে এ বার মুখ খুললেন রতন টাটা।
সোমবার টাটা মোটরসের বার্ষিক সভায় কর্মীদের সামনে তিনি বলেন, ‘‘টাটা মোটরসে থাকার সময়ে গর্ব বোধ করতাম। যাত্রী গাড়ি থেকে শুরু করে সব কিছুতে সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত চার-পাঁচ বছরে বাজারে আমাদের দখল ক্রমশ কমেছে। দেশে ব্যর্থ সংস্থা হিসেবে আমাদের দেখা হয়। এটা আমায় আহত করে।’’
গাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বলছেন, শুধু টাটা গোষ্ঠীর এমেরিটাস চেয়ারম্যান হিসেবে সম্ভবত এ কথা টাটা বলেননি। বলেছেন গাড়ির প্রতি তাঁর চিরকালের দুর্বলতা থেকেও। যে দুর্বলতার কারণে তিনি নিজের জমানায় শুধু বাণিজ্যিক গাড়ির গণ্ডি ছাড়িয়ে এ দেশে যাত্রী গাড়ির অন্যতম শক্তি করে তুলতে চেয়েছিলেন টাটা মোটরসকে। সেই লক্ষ্যে এক দিকে নিজের স্বপ্নের ‘এক লাখি’ গাড়ি ন্যানো তৈরিকে যেমন পাখির চোখ করেছিলেন, তেমনই পিছপা হননি বিশ্বে দামি গাড়ির প্রথম সারির ব্র্যান্ড জাগুয়ার-ল্যান্ডরোভার অধিগ্রহণে।
অনেকে বলছেন, ২০১২ সালে টাটা গোষ্ঠী থেকে রতন টাটা অবসর নেওয়ার পরে গত কয়েক বছরে ক্রমশ পিছিয়েছে এক সময় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম যাত্রী গাড়ি সংস্থাটি। এমনকী দেশে বাণিজ্যিক গাড়ির বাজারেও তাদের অংশীদারি ৬০% থেকে ২০১৭-এ নেমেছে ৪৪ শতাংশে। তাঁদের মতে, সরাসরি নাম না করেও আসলে পূর্বতন কর্ণধার সাইরাস মিস্ত্রির দিকেই আঙুল তুলেছেন টাটা। রতন টাটার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে টাটা সন্সের শীর্ষ পদ থেকে সরতে হয়েছে যাঁকে। অন্তত তাঁর বলা সময় সেই ইঙ্গিতই করে।
কিন্তু তেমনই পাল্টা অনেকে বলছেন, মসনদে খোদ টাটা থাকার সময়েও টাটা মোটরস প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিল কি? সম্ভব হয়েছিল ন্যানোর ব্যর্থতা এড়ানো? দেশের বাজারে যাত্রী গাড়ির নতুন মডেল তখনই বা তেমন আসত কোথায়?
তবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে টাটা বিলক্ষণ আশাবাদী। বিশ্বাস, সংস্থার নতুন ভবিষ্যৎ গড়বেন কর্মীরাই।