টাকার পতন রুখতে সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্র। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে পদক্ষেপগুলি কতটা কাজে দেবে, সেই প্রশ্ন মাথা তুলল বৃহস্পতিবার। এ দিন শর্ত না মানলে আমেরিকার ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি, ইরানের উপর ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ এবং ইরানের ‘হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ’ বলে ঘোষণা ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামে ফের ধস নামাল। ডলার এক লাফে বাড়ল ৬০ পয়সা। দাঁড়াল ৯৫.৮৫ টাকায়। বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই আশঙ্কা, ডলারের ১০০ টাকা ছোঁয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এমনিতে ডলার এ দিন চাঙ্গা ছিল। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আমেরিকার মুদ্রাকে লগ্নির সুরক্ষিত জায়গা ভাবছেন অনেকে। যে কারণে অন্যান্য দেশের মুদ্রার নিরিখেও তার দাম উঠেছে। তবে ভারতে তাতে আরও বেশি ইন্ধন জোগায় বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বেচে লগ্নি তুলে নেওয়া। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকার পতনে দাঁড়ি পড়ার সম্ভাবনা তাই কম বলেই মনে করছেন তাঁরা।
হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, “সরকার বা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক টাকাকে বাঁচাতে যে ব্যবস্থাই করুক, যুদ্ধের বাজারে সেগুলি কাজ দেবে বলে মনে হচ্ছে না। এখন একটাই দাওয়াই, দ্রুত উত্তেজনা কমানো। না হলে ডলারের ১০০ টাকা হতে দেরি হবে না।’’ আইসিএআইয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অর্নিবাণ দত্তের মতে, ‘‘বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রির জেরে ডলার স্রোতের মতো ভারতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। তেল কিনতেও ডলার খরচ হচ্ছে বেশি। কিন্তু যুদ্ধ না থামলে ডলারের আমদানি বাড়ানোর ব্যবস্থাগুলি কাজ করবে বলে মনে হয় না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)