ঋণনীতির পর্যালোচনায় এ বার সুদের হারে হাত দেয়নি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে গ্রাহকের অনলাইন লেনদেন এবং ব্যাঙ্কে জমা রাখা টাকার সুরক্ষা বাড়াতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে তারা। তার মধ্যে রয়েছে, সাইবার প্রতারণার শিকার হলে ক্ষতিপূরণ, গ্রাহকের জন্য উপযুক্ত নয় এমন আর্থিক প্রকল্প জোর-জবরদস্তি করে বিক্রির প্রবণতা আটকানো এবং বকেয়া ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও গ্রাহক-বান্ধব করে তোলার জন্য ব্যবস্থা।
দেশে ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়ছে, তত বেশি সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন মানুষ। এমন ঘটনার শিকার হওয়া গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ব্যাঙ্ক-কে জানালে এবং তাঁর নিজের কোনও গাফিলতি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক মার যাওয়া সেই টাকা ফেরত দিয়ে থাকে। এই ব্যাপারে এ বার নির্দিষ্ট নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। শুক্রবার ঋণনীতি ঘোষণায় আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানান, এই ধরনের প্রতারণায় পুঁজি খোয়ালে গ্রাহক সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। এমনকি তিনি কাউকে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) জানিয়ে দিয়ে থাকলেও, তাঁর ক্ষতিপূরণ পাওয়া আটকাবে না। তবে এক জন জীবনে এক বারই ওই সুবিধা পাবেন।
ক্ষতিপূরণ পাওয়ার শর্ত হল— প্রতারণার অঙ্ক ২৫,০০০ টাকার মধ্যে হলে গ্রাহককে চোট যাওয়া টাকার ১৫% বহন করতে হবে। তার বেশি হলে তিনি সর্বোচ্চ ২৫ হাজারই পাবেন। এ নিয়ে অবশ্য ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন ওই অঙ্ক যথেষ্ট নয়। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ওই অঙ্কের থেকে প্রতারণার অঙ্ক অনেক বেশি। কয়েক লক্ষ, এমনকি কোটি টাকাও উধাও হয়ে যাচ্ছে। বরং ক্ষতিপূরণ না দিয়ে প্রতারণা আটকানোর ব্যবস্থা করলে গ্রাহক বেশি উপকৃত হবেন।’’ অভিরূপের প্রশ্ন, তা হলে বড় অঙ্কের প্রতারণার জন্য গ্রাহকদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার দায় কি এ বার থেকে মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়েই ঝেড়ে ফেলা যাবে?
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের কর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, দেখা গিয়েছে এই ধরনের মোট জালিয়াতির দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রেই টাকার অঙ্ক ৫০ হাজারের মধ্যে। মলহোত্রের দাবি, প্রতারণার জন্য গ্রাহক নিজেই দায়ী নাকি অন্য কেউ, এই প্রশ্ন ওই ক্ষতিপূরণ মেটানোর সময় ব্যাঙ্ক তুলবে না। একাধিক ব্যাঙ্কে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থাকলে এবং একাধিক বার প্রতারিত হলে সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারে অবশ্য কিছু জানা যায়নি।
এ দিকে, ছোট শিল্পের জন্য বন্ধকহীন ঋণের ঊর্ধ্বসীমাও বাড়ানো হয়েছে এ দিন। ১০ লক্ষ থেকে তা বেড়ে হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। নির্দিষ্ট কিছু ঋণপত্রে বিদেশি লগ্নির যে ঊর্ধ্বসীমা ছিল, তা-ও তোলা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)