Advertisement
E-Paper

বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার গ্রামেও

রাজ্যের বহু গ্রামীণ এলাকায় রান্নার গ্যাসের গ্রাহককেই ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার নিয়ে আসতে হয়। এ বার শহরাঞ্চলের গ্রাহকদের মতোই তাঁরাও সিলিন্ডার ‘বুক’ করার পরে বাড়িতেই তা পেতে পারবেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০১৭ ১২:৩৫

রাজ্যের বহু গ্রামীণ এলাকায় রান্নার গ্যাসের গ্রাহককেই ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার নিয়ে আসতে হয়। এ বার শহরাঞ্চলের গ্রাহকদের মতোই তাঁরাও সিলিন্ডার ‘বুক’ করার পরে বাড়িতেই তা পেতে পারবেন।

তিনটি তেল সংস্থার রাজ্য স্তরের সমন্বয়কারী তথা ইন্ডিয়ান অয়েলের (পশ্চিমবঙ্গ) এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর রঞ্জন কুমার মহাপাত্র সোমবার জানান, ধাপে ধাপে গ্রামীণ এলাকার সর্বত্রই বাড়িতে সিলিন্ডার সরবরাহের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় দারিদ্রসীমার নীচে থাকা পরিবারে গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার চাহিদা বাড়ছে। ফলে বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। তাই গ্রামেও বাড়ি বাড়ি সিলিন্ডার পৌঁছনোর জন্য ব্যবসায়িক দিক দিয়ে যে-শর্ত পূরণ প্রয়োজন (মাসে ন্যূনতম সিলিন্ডার বিক্রি) তা সহজ হবে।

ডিলারদের ‘ডেলিভারি বয়’-রা শহরাঞ্চলে গ্রাহকদের বাড়ি সিলিন্ডার পৌঁছে দেন। এ জন্য ডিলারদের যে-খরচ বইতে হয়, সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থা তাঁদের কমিশন বাবদ তার কিছুটা মেটায়। শহরাঞ্চলে গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেই টাকায় তাঁদের পুষিয়ে যায়। কিন্তু গ্রামীণ বা দুর্গম এলাকায় গ্রাহক কম। এবং বিস্তীর্ণ এলাকার দায়িত্ব এক একজন ডিলারের উপর থাকে। ফলে এত দিন সর্বত্র গ্রাহকদের সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হত না ডিলারদের পক্ষে। সিলিন্ডার বুক করার পরে হয় গ্রাহকরা তাঁদের দোকানে বা গুদামে এসে তা নিয়ে যেতেন বা ডিলার কোনও একটি বিশেষ জায়গায় এক সঙ্গে অনেকেরটা পৌঁছে দিতেন। সেখান থেকে গ্রাহক নিজের এলপিজি সিলিন্ডারটি নিয়ে বাড়ি যেতেন।

তেল সংস্থা সূত্রে খবর, গঙ্গাসাগর, কুলতলি, কুশমণ্ডি, নয়াগ্রাম, লাটাগুড়ি, নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়ার মতো গ্রামীণ এলাকার ডিলারদের ক্ষেত্রে এই প্রথাই চালু ছিল। ইন্ডেন, ভারত গ্যাস ও এইচপি গ্যাস— এই তিন সংস্থা মিলিয়ে এ রাজ্যে এ রকম ডিলারের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিনশোরও বেশি।

রান্নার গ্যাস সংযোগের চাহিদা বৃদ্ধির জেরে সিলিন্ডারের জোগানও বাড়াতে হবে সংস্থাগুলিকে। রঞ্জনবাবু জানান, রাজ্যে আরও প্রায় ৬০০ ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা তাঁদের। শেষ পর্যন্ত ক’জন তা পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য নেবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তবে অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকা এর আওতায় আসবে, জানান তিনি।

যদিও বিপিএল তালিকাভুক্তদের অনেকেই এখনও নিয়মিত সিলিন্ডার নিচ্ছেন না বলে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন রঞ্জনবাবু । তাঁর আশা, জ্বালানি কাঠ বা কেরোসিনের খরচ যেমন বেশি, তেমনই অস্বাস্থ্যকর বলে রান্নার গ্যাস নেওয়ার চাহিদা আরও বাড়বে।

নতুন চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্যাসের জোগান বাড়াতে ধামড়া থেকে হলদিয়া হয়ে দুর্গাপুর ও কল্যাণী পর্যন্ত পাইপলাইন বসাচ্ছে ইন্ডিয়ান অয়েল। এ ছাড়া খড়্গপুরে একটি নতুন বটলিং প্লান্ট এবং বজবজ ও কল্যাণীতে চালু বটলিং প্লান্টের সম্প্রসারণ করছে তারা। পানাগড়ে নতুন বটলিং প্লান্ট গড়ছে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম-ও। সব মিলিয়ে গ্যাসের জোগানে সমস্যা হবে না বলেই দাবি তাদের।

Gas cylinder Rural consumers LPG cylinders LPG
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy