Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বাজেটে সূচক তেমন ওঠা-পড়া করবে না, ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১০ জুলাই ২০১৪ ০২:২০

কমে আসছে কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা। বাজেটকে কেন্দ্র করে আশঙ্কাও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে রেল বাজেট। স্বাভাবিক ভাবে তার প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। যার জেরে বাজেটের আগের দিন অর্থাৎ বুধবারও পড়ল সূচক। এ দিন সেনসেক্স পড়েছে ১৩৭.৩০ পয়েন্ট। বাজার বন্ধের সময়ে এ দিন সূচক থিতু হয়েছে ২৫,৪৪৪.৮১ অঙ্কে। মঙ্গলবার সেনসেক্স পড়েছিল ৫১৭.৯৭ পয়েন্ট।

তবে বাজেটে খুব গুরুতর নেতিবাচক পদক্ষেপ না-করা হলে সূচকের আর তেমন হেলদোল হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কেউ কেউ। সাধারণ ভাবে সংস্কারমুখী বাজেটের প্রত্যাশা থাকলেও তাঁদের ধারণা, বাজেট সব দিক থেকে আশানুরূপ না-ও হতে পারে। এটা ধরে নিয়েই দু’দিন ধরে শেয়ার বাজার পড়েছে। তাই বাজেটর পরে নতুন করে বড় মাপের পতন না-ও হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। তার কারণ, ভারতের বাজারে শেয়ার দরের অতিরিক্ত চাঞ্চল্যের সূচক (ভোলাটিলিটি ইন্ডেক্স) বুধবার ৫.১৭% কমে দাঁড়িয়েছে ১৮.১৮৭৫ অঙ্কে। এর ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজেটের দিনে তেমন একটা ওঠা-পড়া করবে না সূচক। জিওজিৎ বিএনপি পারিবাস ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর গবেষণা বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স ম্যাথুজ-এর মতে, “বাজারে শেয়ার দর পড়ার প্রবণতা আছে। কিন্তু বাজেটের দিনে তা তেমন উল্লেখযোগ্য না-ও হতে পারে।

বাজেট নিয়ে সংশয় কিছুটা বাড়ল কেন? বুধবার প্রাক্-বাজেট আর্থিক সমীক্ষায় মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভর্তুকি ঢেলে সাজার প্রয়োজনীয়তার কথা। এই উদ্বেগই বাজেট নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়েছে লগ্নিকারীদের মনে। তাঁদের ধারণা, আয় বাড়াতে এবং খরচ কমাতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ ঘোষিত হতে পারে বাজেটে। এর মধ্যে থাকতে পারে কর বৃদ্ধি, ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপও। এটা হলে সাধারণ মানুষের হাতে লগ্নিযোগ্য অর্থে টান পড়তে পারে। যার কিছুটা বিরূপ প্রভাব শেয়ার বাজারে পড়াই স্বাভাবিক।

Advertisement

সূচক টালমাটাল হওয়ার সম্ভাবনা না-থাকলেও কিছুটা আশঙ্কা থেকেই হাতের শেয়ার বিক্রি করছেন লগ্নিকারীদের মধ্যে অনেকে। তাঁরা যে-কৌশল নিয়েছেন তা হল, এখন শেয়ার বেচে মুনাফা তুলে নিয়ে বাজেটের পরে বাজারের হাল কী দাঁড়ায়, তার উপর নজর রাখা এবং সুযোগ বুঝে ফের লগ্নির রাস্তায় হাঁটা।

বাজেটে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির গতি বাড়াতে দীর্ঘ মেয়াদি পদক্ষেপের উপরই নতুন সরকার জোর দেবে বলে মনে করছেন মূলধনী বাজার বিশেষজ্ঞ বি কে দত্ত। তিনি বলেন, “ভর্তুকি সরাসরি কতটা কমানো হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে তার অপব্যবহার রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বাজেটে। তা ছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিলগ্নিকরণ মারফত উন্নয়নের অর্থের সংস্থান ইত্যদি ব্যবস্থা বাজেটে থাকলে, তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের আর্থিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে। যা আখেরে চাঙ্গা করে তুলবে শেয়ার বাজারকেও।”

একই মত পোষণ করেছেন ফিনশোর ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান লক্ষ্মণ শ্রীনিবাসন। তিনি বলেন, “বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে দীর্ঘ মেয়াদে সরকার কী কী ব্যবস্থা নেয়, তা লক্ষ করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে ওই সব পদক্ষেপ অপ্রিয় হলেও দীর্ঘ মেয়াদে সেগুলি দেশের আর্থিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহয়াক হবে কি না, তা বিচার করে দেখতে হবে বাজারকে।”

তবে বাজেটে যদি কড়া পদক্ষেপ নেওয়াও হয় এবং তা যদি সাধারণ লগ্নিকারীদের অসন্তুষ্ট করে, তাতেও শেয়ার বাজারের তেমন কিছু আসবে যাবে না বলে মনে করেন দত্ত। তিনি বলেন, “ভারতের বাজারের স্বাস্থ্য প্রধানত নির্ভর করছে বিদেশি সংস্থাগুলির বিনিয়োগের উপর। ওই সব সংস্থা কিন্তু কড়া অথচ দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে এমন বাজেটকেই স্বাগত জানাবে।” দত্তর কথা যে-সঠিক, তার পরিচয় ইতিমধ্যেই মিলেছে। মঙ্গলবার রেল বাজেটে হাতে গরম তেমন সুবিধা না-থাকায় সেনসেক্সের পতন হয়েছে প্রায় ৫১৮ পয়েন্ট। কিন্তু ওই দিনই বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলি ভারতের বাজারে লগ্নি করেছে ৪২৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

Advertisement