শেয়ার বাজারের কাছে এখন অনেক কিছুই সদর্থক। ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ থেমেছে। কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। মাথা নামাতে শুরু করেছে ডলার। মে মাসে দেশে আকর্ষণীয় হারে বেড়েছে গাড়ি বিক্রি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) এবং রিলায়্যান্সের জিয়ো প্ল্যাটফর্ম বাজারে প্রথম বার শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) অনুমতি চেয়ে নিয়ন্ত্রক সেবির দফতরে খসড়া বিবরণপত্র (প্রসপেক্টাস) জমা দিয়েছে। বেশ কিছু দিন পরে, গত বৃহস্পতিবার বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি ভারতের শেয়ার বাজারে বড় মাপের লগ্নি করেছে। যার পরিমাণ প্রায় ৪৮৫৯ কোটি টাকা। বিদেশি লগ্নি আসছে সরকারি ঋণপত্রেও।কারণ, এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ করে ছাড় পাচ্ছে তারা।
গত মাসে হরমুজ় বন্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশের পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৮.৩৫%। এপ্রিল থেকে ১৭ জুন আয়কর সংগ্রহ বেড়েছে ১৪.৬৪%। ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হবে ভারত-ইংল্যান্ডের অবাধ বাণিজ্য চুক্তি, যা বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় মদত জোগাবে।
এই সদর্থক আবহের কারণেই টানা পাঁচ দিন ধরে শেয়ার বাজার তেড়েফুঁড়ে উঠেছে। সেনসেক্স মোট ৩৫৭৬ পয়েন্ট ওঠার পরে গত শুক্রবার ৬০৭ নেমে দাঁড়ায় ৭৬,৮০৩ অঙ্কে। তবে সেনসেক্স এখনও তার সর্বকালীন উচ্চতা (৮৫,৮৩৬) থেকে৯০০০ পিছনে।
এত ভালর মধ্যেও অবশ্য উঁকি মারছে আশঙ্কার দিকগুলি। হরমুজ় প্রণালীর খুলে যাওয়া বাজারে ভাল প্রভাব ফেলেছিল। তবে তা আবার বন্ধ হয়েছে। ফলে হরমুজ়ের পুরোপুরি খোলা নিয়ে চিন্তা বহাল। পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এপ্রিলের ৮.৩% থেকে বেড়ে গত মাসে পৌঁছেছে নজিরবিহীন ৯.৭ শতাংশে। মাথা তুলছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধিও। এল নিনিয়োর প্রভাবে এ বার বৃষ্টিতে ঘাটতির আশঙ্কা। যা কৃষি উৎপাদনে আঘাত হানতে পারে। কম ফলন ঠেলে তুলতে পারে খাদ্যপণ্যের দামকে। গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হলে কমতে পারে পণ্যের চাহিদা। বর্ষা দেরিতে আসায় এরই মধ্যে (৪-১৮ জুন) ৪১% ঘাটতি হয়েছে বৃষ্টিপাতে। জিনিসের দাম বেশি বাড়লে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকবে।
এরই মধ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে বেকারত্ব। এপ্রিলের ৫.২% থেকে বেড়ে মে মাসে হয়েছে ৫.৫%, যা ১১ মাসে সর্বোচ্চ। বিভিন্ন শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগ যে গতিতে বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে বহু মানুষের কাজ হারানোর আশঙ্কা। সমস্যাগুলি বেশ গুরুতর, পাশে সরিয়ে রাখার মত নয়।
সম্প্রতি রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় আকারের লগ্নির কথা ঘোষণার পাশাপাশি জানানো হয়েছে জিয়ো প্ল্যাটফর্মের আইপিও আনার কথা। বড় মাপের আইপিও আনতে চলেছে এনএসই এবং এসবিআই মিউচুয়াল ফান্ডও। এই তিনটির হাত ধরে ভারতের বাজারে নথিবদ্ধ সব শেয়ারের মোট মূল্য রাতারাতি অনেকটাই বাড়বে, যাসম্প্রতি খানিকটা নেমে আসা ভারতীয় শেয়ার বাজারকে ফের দু’এক ধাপ ঠেলে তুলতে পারে। তবে বাজারকে চাঙ্গা রাখতে বিদেশি লগ্নিকে ফের ভারতমুখো করতে হবে। হয়তো বন্ডের মত শেয়ারেও কিছু ছাড় দিতে হবে। সুবিধা দিতে হবে দেশের লগ্নিকারীদেরও।
(মতামত ব্যক্তিগত)
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)