নামীদামি সংস্থার স্টকে লগ্নি করেছেন গৃহকর্তা। তাঁর মৃত্যু হলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে হস্তান্তর করতে হয় ওই শেয়ার। সেই প্রক্রিয়ায় এ বার বড় বদল আনল সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া বা সেবি। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সূত্রে খবর, নতুন নিয়মে অনেক সহজ ও দ্রুত হবে স্টক হস্তান্তর। কমবে নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তাও।
লগ্নিকারীর মৃত্যু হলে স্টক হস্তান্তরের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। মূলত, যৌথ মালিক (জয়েন্ট হোল্ডার), নমিনি বা আইনসম্মত উত্তরাধিকারীরা পান সংশ্লিষ্ট শেয়ার। এই প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে চলতি বছরের ১৯ জুন নতুন একটি বিভাগ খোলে সেবি। এর পোশাকি নাম কুইক ট্রান্সমিশন প্রসেসিং বা কিউটিপি। এর মাধ্যমে হস্তান্তরের সীমা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সেবি জানিয়েছে, স্বল্পমূল্যের দাবির খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কিউটিপি খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা শেয়ার ও ৩০ হাজার টাকার ডিম্যাট মালিকানা বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। উল্লেখ্য, এত দিন তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্টক খুব সহজে বা কম নথির বিনিময়ে হস্তান্তর করত সেবি।
সেটাই এ বার বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করেছে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ডিম্যাটেরিয়ালাইজড মালিকানার ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে ৩০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের পুরোটাই হয় অনলাইনে। তবে এখনও কাগজের স্টককে অবৈধ ঘোষণা করেনি সেবি।
আরও পড়ুন:
যদি কোনও লগ্নিকারীর কাছে কাগুজে শেয়ার থাকে, তবে সেটিকে ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে রূপান্তরিত করতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগকারীর ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক। মৃত ব্যক্তির শেয়ার সেখানেই হস্তান্তর করবে সেবি। পার্মানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর বা প্যান ছাড়া ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। আর তাই স্টক হস্তান্তরের সময়ে প্যান জমার নিয়ম বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া শেয়ার হস্তান্তরের সময় ইচ্ছাপত্র বা উইলের বৈধতা যাচাই করতে বাড়তি নথি নেবে না সেবি। মৃত ব্যক্তির শংসাপত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন জয়েন্ট হোল্ডার, নমিনি বা উত্তরাধিকারী। তবে নতুন নিয়ম অনুমোদন পেলেও এখনও তার বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণা করেনি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এর জন্য খুব দ্রুত সার্কুলার জারি করতে পারে তারা।