নোটবন্দি, জিএসটি, অতিমারি হয়ে মূল্যবৃদ্ধি, এমনকি হালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০% শুল্কের অভিঘাত। একের পর এক ঝাপ্টায় বার বার ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে ক্ষুদ্র-ছোট-মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)। পায়ের তলার জমি শক্ত করতে তাই এ বারও বাজেটের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা। আর্জি জানিয়েছিল ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট পুঁজির। শেষমেশ রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ঘোষিত বাজেটে সহায়তা মিলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি সামান্য। তাদের জন্য ‘গ্রোথ ফান্ড’ গড়ার কথা বলা হয়েছে। তহবিল ১০,০০০ কোটি টাকার। এর মধ্যে আলাদা করে ২০০০ কোটি টাকার ‘টপ আপ’ ফান্ড বরাদ্দ অতিক্ষুদ্র সংস্থাগুলিকে স্বাবলম্বী করতে। শিল্পের অনেকে অবশ্য বলছেন, ‘‘অনিশ্চিত বিশ্ব বাজারের ধাক্কা সামলাতে তবু তো কিছু জুটল।’’
ছোট শিল্পের বণিকসভা ফসমির সভাপতি বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘সহজলভ্য ঋণ, ব্যবসার সহজ পরিবেশ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত উৎসাহব্যঞ্জক। কাজে দেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বকেয়া মেটাতে চালু পোর্টালও। তবে আসল পরীক্ষা সুবিধাগুলির বাস্তবায়ন।’’ কারও কারও প্রশ্ন, করের বোঝা, কাঁচামালের চড়া দাম, জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী খরচ এবং নিয়মের বেড়াজাল যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন এটুকুতে কী কাজ হবে? সর্বভারতীয় বণিকসভা সিআইআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার চেয়ারম্যান শাশ্বত গোয়েন্কার দাবি, বাজেটের ঘোষণা গোটা শিল্প ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী করবে।
যদিও হতাশ উদ্যোগপতিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান অন্ত্রেপ্রেনর্স-এর সভাপতি কে ই রঘুনাথন। বলছেন, ‘‘এই বাজেট ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য আশাব্যঞ্জক নয়। একটি তহবিলের ঘোষণা ছাড়া কিছু চোখে পড়ছে না। কী করে তারা উপকৃত হবে, স্পষ্ট দিশা নেই।’’ বণিকসভা পিএইচডি চেম্বারেরও প্রশ্ন, এমএসএমই-র প্রসারে একাধিক পদক্ষেপ করা হলেও, তার কতটা বাস্তবায়িত হবে সন্দেহ আছে। এমএসএমই ডেভলপমেন্ট ফোরাম— ওয়েস্ট বেঙ্গলের পক্ষে মমতা বিনানি যদিও তাদের জন্য তহবিলকে ‘গেম চেঞ্জার’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছেন, সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। এই পুঁজি ভরসা জোগাবে।
বাজেট বক্তৃতায় সীতারামন এমএসএমই-গুলির জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ করার ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ট্রেডস-এর পূর্ণ ব্যবহার। সংস্থাগুলি এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে অন্তত ৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি নিজেদের ব্যবহারের জন্য খরচ করতে পারবে। তাদের সংশোধিত আয়কর রিটার্নের ক্ষেত্রে জরিমানার বোঝাও কমেছে। ছোট শিল্পের সংগঠন ফ্যাকসির সভাপতি এইচ কে গুহ জানান, বিশেষ তহবিল, সময়ে বকেয়া পাওয়ার ব্যবস্থা, ট্রেডসের পূর্ণ ব্যবহার, বস্ত্র ও চর্ম ক্ষেত্রের প্রসারে একাধিক পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে।
বণিকসভা ভারত চেম্বারের সভাপতি নরেশ পাচিসিয়ার কথায়, ‘‘ছোট শিল্পের প্রসারে বিভিন্ন দিক থেকে পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত কয়েকটির তুলনায় এ বারের বাজেট এখানেই আলাদা।’’ বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি অভিজিৎ রায়ও নির্মলার ঘোষণায় খুশি। বন্ধন ব্যাঙ্কেরপ্রাক্তন শীর্ষকর্তা চন্দ্রশেখর ঘোষের বার্তা, এমএসএমই-তে এমনিতেই বিপুল কর্মসংস্থান হয়। নতুন তহবিলের হাত ধরে আরও কিছু কাজ তৈরি হবে দেশে।
আশা-আশঙ্কা
একাংশের দাবি, বিশ্ব বাজারের ধাক্কা সামলাতে কিছু অন্তত সাহায্য এল।
বাকিদের প্রশ্ন, বার বার ধাক্কা খাওয়া ছোট শিল্পের জন্য বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল আরও অনেকটা পুঁজি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)