কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির জেরে মঙ্গলবার বিএসএনএলের পর্ষদের বৈঠকে স্বেচ্ছাবসর প্রকল্পের (ভিআরএস) প্রস্তাব আলোচনায় উঠল না। কেন্দ্রও এ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানায়নি। কিন্তু সংস্থার কর্মী-অফিসারদের সংগঠনগুলির দাবি, সংস্থা পুনরুজ্জীবনের বিভিন্ন প্রস্তাব আদপে বিএসএনএলের ভবিষ্যৎ নিয়েই আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। 

সংস্থার এক কর্তা বুধবার জানান, কেন্দ্রের দুই প্রতিনিধি ভোটের জন্য ব্যস্ত থাকায় বৈঠকে ছিলেন না। ফের মে-র গোড়ায় বৈঠক হওয়ার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, কেন্দ্রের নির্দেশে ভিআরএস প্রস্তাব দিতে পারে টেলিকম দফতরও (ডট)। সরকারি সংস্থা হওয়ায় বিএসএনএলের পক্ষে যা আমান্য করার সুযোগ কম।

সূত্রের খবর, ডট স্বেচ্ছাবসর-সহ সংস্থা পুনরুজ্জীবনের নোট কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কাছে পাঠালেও কর্মী-অফিসারদের সংগঠনগুলি বিরোধিতা করেছে। আপত্তি তুলে টেলি সচিবকে চিঠি দিয়েছে বিএমএস অনুমোদিত ভারতীয় টেলিকম এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (বিএসএনএল)। সংগঠনের কর্তা আর সি পাণ্ডের দাবি, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই নোট নিয়েও কথা হয়নি।

বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কর্তা স্বপন চক্রবর্তীর অভিযোগ, সংস্থার নামে থাকা অব্যবহৃত জমি ও বাড়ি লিজ বা ভাড়া দিয়ে সেই অর্থ পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচের জন্য ক’বছর আগে কেন্দ্রের সায় চায় বিএসএনএল। এখন কেন্দ্র ছাড়পত্র দিতে চাইলেও, সেই অর্থ সংস্থার উন্নয়নের বদলে ভিআরএস দিতে খরচের প্রস্তাব উঠছে! 

সংস্থার অফিসারদের সংগঠন এআইবিএসএনএলইএ-এর দাবি, ভিআরএসে বেতন সংশোধনের প্রস্তাব ডট বিবেচনা করছে না। পরে বেতন সংশোধন হলে স্বেচ্ছাবসর নেওয়া কর্মী-অফিসারেরা তার সুযোগ পাবেন না। আশঙ্কা, সে ক্ষেত্রে পেনশন-সহ অবসরকালীন সুবিধা অনেক কমবে। পেনশনপ্রাপ্তদের সংগঠনের কর্তা অমিত গুপ্তের দাবি, অবসরপ্রাপ্তদের বছর দেড়েকের চিকিৎসার বিল বাকি। 

সংস্থার ভবিষ্যৎ উদ্বেগে তাঁরাও।