যাঁর উপরে ৯ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার মামলা, সেই বিজয় মাল্যই কি না ঋণের ভারে ধুঁকতে থাকা সংস্থা জেট এয়ারওয়েজকে বাঁচানোর উপায় বাতলালেন! মঙ্গলবার সকালে টুইট করে নিজের সম্পত্তি দিয়ে জেট এয়ারওয়েজকে সাহায্য করার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই টুইটের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর টুইটে বিদ্রুপ করে লিখেছেন, ‘এই জন্যই আপনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।’

সোমবার জেট এয়ারওয়েজকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও একটা সুযোগ দিয়েছে ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলোর গোষ্ঠী। এই শর্তে সোমবারই স্টেট ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ১৫০০ কোটি টাকা জেটকে নতুন করে ধার দেবে ঋণদাতারা। তা ছাড়াও ব্যাঙ্কের কাছে যে বিশাল অঙ্কের ঋণ বকেয়া রয়েছে, সেই টাকা জেটকে শোধ করতে হবে না। সেই টাকার সমমূল্যের শেয়ার ১ টাকার বিনিময়ে ব্যাঙ্ক হাতে নেবে। এসবিআই এবং পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কই জেট এয়ারওয়েজকে বাড়তি ঋণ দেবে বলে জানিয়েছে। ওই দিনই আবার নিজের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন সস্ত্রীক নরেশ গয়াল।

জেটের এই পরিস্থিতি নিয়েই মঙ্গলবার সকালে মাল্যর টুইট। তাতে জেট এয়ারওয়েজের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি মাল্যের এও আক্ষেপ, তাঁর সংস্থার পাশে যদি একই ভাবে ব্যাঙ্ক দাঁড়াত তাহলে কিংফিশারের এই দশা হত না। দু’টি প্রায় একই ঘটনায় এনডিএ সরকারের দু’রকম ভূমিকা পালন করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

আরও পড়ুন: আডবাণী এখনও নীরবই, টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ কিন্তু গোপন রাখলেন না জোশী

টুইটে মাল্য লেখেন, ‘পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলো জেট এয়ারওয়েজের এতগুলো চাকরি বাঁচিয়েছে, এটা খুবই খুশির বিষয়। এটাই যদি কিংফিশারের সঙ্গে ঘটত তা হলে এই দিনটা দেখতে হত না।’ আর একটি টুইটে মাল্য লেখেন, ‘আমি আবারও বলছি, ব্যাঙ্ক আমার সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে। এই সম্পত্তি জেট এয়ারওয়েজকে ঘুরে দাঁড়ানোর কাছে লাগতে পারে,’ টুইট করেন মাল্য।

 

তিনি যে ঋণ শোধ করতে ইচ্ছুক এর আগেও মাল্য দাবি করেছেন। আগেও তিনি একবার জানিয়েছিলেন, টাকা ফেরতের প্রস্তাব তিনি কর্নাটক হাইকোর্টে দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্কগুলো সেই টাকা গ্রহণ করতে চাইছে না।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

কিংফিশারকে বাঁচাতে বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মাল্য। কিন্তু সেই টাকা শোধ করার পরিবর্তে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বর্তমানে মাল্য লণ্ডনে রয়েছেন। সেখানে তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন বারবারই সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।