E-Paper

রুশ তেল সংস্থায় নিষেধাজ্ঞায় চাপে রিলায়্যান্স, নায়রা, তবে সমস্যা নেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির

গত বছরের ডিসেম্বরে রসনেফ্টের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি হয় রিলায়্যান্সের। রুশ সংস্থার থেকে দৈনিক ৫ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনার কথা তাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৭:৩১

—প্রতীকী চিত্র।

রাশিয়ার বৃহত্তম দুই তেল সংস্থা রসনেফ্ট এবং লুকঅয়েলের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল আমেরিকা। যার অর্থ, কোনও সংস্থা এদের থেকে তেল কিনলে নিষেধাজ্ঞা চাপবে তাদের উপরেও। এর ফলে ভারতে সবচেয়ে চাপে পড়ল মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়। কারণ, এ দেশের সংস্থাগুলির মধ্যে রসনেফ্টের থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে তারাই। দুই সংস্থার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। ফলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গেলে তেল আমদানির জায়গা বদলাতে হবে তাদের। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির অবশ্য সেই সমস্যা নেই। এর পরেই ফের মুখ খুলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আবারও দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। বছর শেষের আগেই রুশ তেলের আমদানি শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনবে ভারত। ট্রাম্পের এই দাবির প্রেক্ষিতে যথারীতি মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস।

গত বছরের ডিসেম্বরে রসনেফ্টের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি হয় রিলায়্যান্সের। রুশ সংস্থার থেকে দৈনিক ৫ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনার কথা তাদের। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ফলে মুকেশ অম্বানীর সংস্থাকে এখন অন্য জায়গা থেকে তেল কিনে শোধন করে পেট্রোপণ্য উৎপাদন করতে হতে পারে। কিন্তু চুক্তিভঙ্গের ফলে কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সংবাদমাধ্যমের পাঠানো ই-মেলের উত্তর দেয়নি তারা। তবে সংস্থা সূত্রের দাবি, সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমদানির উৎস সরানো হতে পারে। এ দিন এক্স-এ এই সংক্রান্ত খবরের ‘স্ক্রিনশট’ পোস্ট করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ লিখেছেন, ‘‘মোদী প্রস্তাব করেছেন। রিলায়্যান্স পালন করেছে। জানিয়েছেন ট্রাম্প।’’ চাপে নায়ারা এনার্জিও। সেখানে রসনেফ্টের ৪৯.১৩% অংশীদারি রয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল, এইচপিসিএল-সহ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির অবশ্য এই সমস্যা নেই। কারণ তারা সরাসরি রুশ সংস্থার থেকে তেল কেনে না। তারা দরপত্রের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী সংস্থার থেকে তেল কেনে। যারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলেছেন, ‘‘আপনারা জানেন, ভারত আমাকে বলেছে তারা বন্ধ করে দেবে (রাশিয়া থেকে তেল কেনা)। এটা একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে করতে হয়। এক দিনে বন্ধ করা যায় না। এ বছরের মধ্যে প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনবে তারা। প্রায় ৪০% তেল। ভারত অসাধারণ। গতকালই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি। ওঁরা অসাধারণ।’’

তেল কিনে রাশিয়াকে যুদ্ধে ‘সাহায্য’ করার জন্য ভারতীয় পণ্যে চড়া শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। ভারত অবশ্য বরাবরই একে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আর্থিক সহযোগিতা (অ্যাপেক) সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কথা হবে। তাঁকেও রাশিয়া থেকে তেল কিনতে বারণ করবেন তিনি।

কাদের কী সমস্যা

ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অশোধিত তেল কেনে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়।

রসনেফ্টের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে তাদের। ফলে তারাই সবচেয়ে চাপে। আমদানির সূত্র বদলাতে হতে পারে তাদের।

নায়ারা এনার্জিতে রসনেফ্টের অংশীদারি ৪৯.১৩%। তারা পুরো তেলই রাশিয়া থেকে কেনে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল, এইচপিসিএল, ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি এবং এইচপিসিএল-মিত্তল এনার্জির সেই সমস্যা নেই। তারা রুশ তেল কেনে দরপত্রের ভিত্তিতে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Russian Oil Trade Deal Reliance america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy