আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষেত্র যে বেশ খানিকটা উপকৃত হবে, তা মোটের উপর স্পষ্ট। তবে এখনও পর্যন্ত অনেক কিছু স্পষ্ট নয় বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যে কারণে একটা ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সেই সব যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রফতানিকারী সংস্থা। তাদের দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি হলে ভারতীয় সংস্থাগুলির ব্যবসা বাড়বে ঠিকই। তবে শুল্ক নিয়ে সব তথ্য বোঝা যাচ্ছে না। আমেরিকান নিরাপত্তা কাউন্সিলের আওতায় কী কী বিষয় থাকছে এবং সেগুলির উপরে করের হার কী হচ্ছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। যে কারণে আশাবাদী হলেও, ধোঁয়াশা কাটাতে বেশ কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্ট নীতি চাইছে তারা।
ভারতীয় গাড়ির যন্ত্রাংশ সংস্থাগুলিকে সিংহভাগ পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক গুনতে হচ্ছিল। তা এখন কমে ১৮% হল। এই ধরনের পণ্যগুলি মূলত ছিল সে দেশের ২৩২ ধারার অধীনে। ফলে ৫০% শুল্ক বসেনি। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করে সমস্ত গাড়ির যন্ত্রাংশের উপরেই ২৫% শুল্ক বসবে। সেই হারই কমে হয়েছে ১৮%। বর্তমানে ভারত থেকে ৬৫০ কোটি ডলারের গাড়ি-যন্ত্রাংশ আমেরিকায় রফতানি হয়। যদিও গোটা বিশ্বে সেই অঙ্ক ৮০২০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। তবে আমেরিকার শুল্ক নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই চিন্তায় ছিল এই সংস্থাগুলির সংগঠন অ্যাকমা। তাদের পক্ষ থেকে শনিবার ধন্যবাদ জানানো হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা ও দেশের বাণিজ্যের উপর প্রভাব যে সব পণ্যের বেশি প্রভাব পড়তে পারে, সেগুলির শুল্কের হার আলাদা হয়। সেমিকনডাক্টর, কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশ-সহ সেই সব পণ্য আমেরিকায় ২৩২ ধারার আওতায়। কী কী এই ধারায় রাখা হবে, তা নির্দিষ্ট করতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। ফলে এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়সাপেক্ষ।
যন্ত্রাংশ শিল্পের দাবি, এ বার ব্যবসা বৃদ্ধির সুযোগ খুলবে। আমেরিকার সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করা যাবে। তবে ধোঁয়াশা কাটা জরুরি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)