বিধানসভা নির্বাচনের আগের কেন্দ্রের বঞ্চনা এবং রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলি তুলে ধরতে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী একটি তথ্য-কাহিনি চিত্র বানিয়েছেন। যা তথ্য সংস্কৃতি দফতরের ইউটিউব চ্যানেলে দেখানো হয়েছে। এ বার তার পাল্টা ভাষ্যের ছবি তৈরির পরিকল্পনা রাজ্য বিজেপির। ইতিমধ্যে সেই কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ প্রচারে জোর দিচ্ছে বিজেপি। সেই কাজ তদারকির জন্য দিল্লি থেকে লোকও এসেছেন। আলাদা কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তারা বিষয় ধরে ধরে ভাষ্য তৈরি করছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা-ই ছোট ছোট সিনেমা আকারে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে। বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যের বেহাল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিল্প, নগরায়ন-সহ একাধিক বিষয় থাকছে ভাষ্যে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গিয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়েছে এই সংক্রান্ত বিষয়গুলি ধরে ছবি তৈরির জন্য। সেই সংস্থার কর্মীরাই প্রাথমিক চিত্রনাট্য তৈরি করছেন। এর পরে সেটা যাচ্ছে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে। তিনি খুঁটিয়ে দেখে চূড়ান্ত সম্মতি দিলেই শ্যুটিং শুরুর সম্ভাবনা।
কিন্তু কেন স্বয়ং রাজ্য সভাপতির এই নজরদারি? শমীক বাংলা সাহিত্যের প্রতি বিশেষ ভাবে অনুরাগী। সেই সঙ্গে তিনি বাঙালিয়ানা নিয়েও খুঁতখুঁতে। বিজেপি সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ঘুরতে থাকা কিছু গান বা প্রচার-ভাষ্যের শব্দ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তিনি। কিছু শব্দ বেমানান অথবা অর্থহীন মনে হয়েছে তাঁর। সেই সঙ্গে কিছু জায়গায় বাঙালিয়ানার প্রতিফলনে খামতি রয়ে গিয়েছে বলেও তাঁর মত। তাই সংস্থার কর্মীরা স্বয়ং শমীককে দিয়েই সবটা দেখিয়ে নিচ্ছেন। প্রয়োজন মতো ভাষাগত এবং ব্যাকরণগত খামতি সংশোধন করে দিচ্ছেন রাজ্য সভাপতিই।
বিজেপি সূত্রের খবর, এক একটি বিষয় নিয়ে এক থেকে দেড় মিনিটের প্রচার-ছবির ভিডিয়ো ‘ক্যাপসুল’ তৈরি হবে, যা সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যাবে। চিত্রনাট্যে তৃণমূল আমলের সঙ্গে বাম আমলকেও কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। বারবার ‘লালপার্টি’, ‘চটিপার্টি’ কটাক্ষও রাখা হয়েছে চিত্রনাট্যে। বাম আমলে শুরু হওয়া রাজ্যের অবনতি তৃণমূল আমলে কী ভাবে দ্রুততর হয়েছে, সে কথা চিত্রনাট্যে লেখা আছে। সংস্থার এক কর্মীর বক্তব্য, ‘‘আমাদের মূল লক্ষ্য গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা সেই অংশের মানুষকে দিয়েই তাঁদের ভাষায় সহজ ভাবে তাঁদের মনের কথা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। আমাদের আশা, শাসক দলের তৈরি ছবির চেয়ে আমাদের বানানো কাজই মানুষ বেশি দেখবেন।’’
পাশাপাশি, নির্বাচনী ইস্তাহার (সঙ্কল্প পত্র) তৈরির আগে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং পরামর্শ গ্রহণ করতে ‘ড্রপ বক্স’ রাখছে রাজ্য বিজেপি। ওয়েবসাইটে, কিউ আর কোড স্ক্যান করে কিংবা একটি নির্দিষ্ট দূরভাষ নম্বরে যোগাযোগ করেও যে কেউ পরামর্শ দিতে পারবেন। আগামী ১৭ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি পরামর্শ সংগ্রহের জন্য বিশেষ অভিযান হবে। সঙ্কল্প পত্র কমিটির সদস্যরা জেলায় জেলায় ঘুরে সমাজের সব অংশের মানুষের প্রত্যাশা এবং পরামর্শ শুনবেন। তার পরে তা একত্রিত করে এ মাসের শেষেই সঙ্কল্প পত্র প্রকাশ করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)