E-Paper

শুনানির শেষ দিনে আর্জি আরও ৭ দিনের

শুনানির দিন বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “বেশ কিছু ডিইও-র কাছ থেকে খবর পেয়েছি, কোথাও শুনানি বাকি রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শুনানির জন্য আরও ৭ দিনের সময় চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের স্থির করা আগের সূচি অনুযায়ী শুনানির শেষ দিন ছিল শনিবার। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলা সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে সিইও দফতরে। তাই কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে সিইও দফতর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্ভাব্য ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই সময় মিলতে পারে। তবে তার মধ‍্যে বাকি থাকা শুনানি, তথ্য আপলোড করা, জেলাশাসকদের তরফে যাচাই— সব করে ফেলতে হবে। অন্য দিকে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এ-ও জানিয়ে দিয়েছে, স্থায়ী বাসিন্দা (পিআরসি) বা ডমিসাইল শংসাপত্র গ্রাহ্য হবে সেগুলিই, যেগুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯৯৯ সালের আদেশনামার ভিত্তিতে তৈরি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট আদেশনামায় বলা রয়েছে, এমন শংসাপত্র সকলের জন্য নয়। ফলে, সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে কার্যত তা কার্যকর হচ্ছে না।

আগের সূচি অনুযায়ী, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার কথা ছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাওয়ার কথা ছিল। সময় বাড়ানোর আর্জির কারণে ১৪ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যে বেরোবে না, তা এক প্রকার নিশ্চিত। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ চার-পাঁচটি জেলা কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য সময় বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে শুনানির যা সংখ্যা, তা ৭ দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলা যাবে। অবশ্য এর আগে একটি বৈঠকে সময় বাড়ানোর দরকার কি না, তা জানতে চেয়েছিল কমিশন। তখন সেই প্রয়োজন সামনে আসেনি। শুনানির দিন বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “বেশ কিছু ডিইও-র কাছ থেকে খবর পেয়েছি, কোথাও শুনানি বাকি রয়েছে। কোথাও তথ্য নথিভুক্তি বাকি আছে, কোথাও নথি যাচাই বাকি আছে। তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ৭ দিন সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি।”

বিষয়টি নিয়ে আসরে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের মতে, ‘‘এই সিদ্ধান্তে আবার নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ও দক্ষতার অভাব প্রমাণ হল। আসলে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলায় বিপর্যস্ত কমিশনের এ ছাড়া কিছু করারও ছিল না!’’ কংগ্রেস ও সিপিএমের দাবি, যে অপরিকল্পিত ভাবে এসআইআর চলছে, তাতে সময় আরও বাড়ানোই উচিত। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘সুষ্ঠু কোনও পরিকল্পনা ছাড়া কমিশন এসআইআর-এর কাজে এগিয়েছে। শুনানির নামে মানুষকে লাগামছাড়া হয়রানির মুখে ফেলা হয়েছে, গুচ্ছ গুচ্ছ নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এ ভাবে হয় না। মানুষের স্বার্থেই সময় আরও বাড়ানো উচিত।’’ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, “কমিশন এসআইআর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তারা নিরপেক্ষ ভাবে এই কাজ করার বদলে প্রতিহিংসার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাই প্রতি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করতে হচ্ছে। মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আমরা এই শুনানি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।” শুনানির জন্য অতিরিক্ত অন্তত ১৫ দিন বরাদ্দ করার দাবি জানিয়ে সিইও দফতরে চিঠিও দিয়েছে কংগ্রেস।

তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ কমিশনের বিষয়। আমরা চাইছি, আমাদের দাবি পূরণ হোক। যে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ এবং তৃণমূলের যৌথ বাহিনীর চেষ্টায় সেগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, আমরা চাই সেগুলো যাতে জমা করা যায়। নো এসআইআর, নো ভোট!”

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন কমিশনকে জানিয়েছে, মেটিয়াবুরুজ, মগরাহাট পশ্চিম, কসবা, ক‍্যানিং পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মহেশতলা, ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও কাজ শেষ হয়নি। তাই ৩ থেকে ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় দরকার। এই সব কেন্দ্রেই যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির কারণে তথ্য যাচাই করতে আরও সময় চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পিআরসি বা ডমিসাইল শংসাপত্র এ রাজ্যে ভোটারদের নথি হিসাবে গ্রাহ্য হবে কি না, বেশ কিছু দিন আগে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল দিল্লির নির্বাচন সদনের কাছে। তারা জানিয়েছে, ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশিত আদেশনামা অনুযায়ী, জেলাশাসক, এসডিওরা যাঁদের পিআরসি বা ডমিসাইল শংসাপত্র দিয়েছেন, একমাত্র সেগুলি গ্রাহ্য হবে। পঞ্চায়েত বা পুরসভাকে দিয়ে এই কাজ করালে যে গ্রাহ্য হবে না, বুঝিয়ে দিয়েছে কমিশন। ওই আদেশনামায় বলা রয়েছে—এমন শংসাপত্র শুধুমাত্র তাঁদের জন্য, যাঁরা সেনা বা আধাসেনায় চাকরি পেয়েছেন। তাতে সেই ব্যক্তিকে এ রাজ্যে ১৫ বছর ধরে থাকতে হবে। থাকতে হবে স্থায়ী সম্পত্তি। এ রাজ্যে জন্ম বা পড়াশোনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি এবং তাঁদের সম্পর্কে পুলিশের রিপোর্ট দেখে তবে সেই শংসাপত্র দেওয়ার নিয়ম। ফলে, এই নথি সাধারণ ভোটারদের জন্য কার্যকর যে নয়, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছে কমিশন।

পাশাপাশি, এসআইআরের শুনানি-পর্বে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের সই জাল করা হয়েছে উত্তর কাঁথি বিধানসভায়—কমিশনে এমনই অভিযোগ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ‘‘উত্তর কাঁথি বিধানসভায় এলাকায় মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের সই জাল করা হয়েছে। তাঁরা সন্দেহজনক ভোটারদের যে সব নথিতে ‘লাল ফ্ল্যাগ’ দিয়েছিলেন, সেগুলিতে ‘সবুজ ফ্ল্যাগ’ লাগানো হয়েছে।’’ সমাজ মাধ্যমে ৭টি বুথের নামও দিয়েছেনশুভেন্দু। এই ৭টি বুথই কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের মধ্যে পড়ে। সেখানকার বিডিও অরুণ পাত্র বলেন, ‘‘অভিযোগ হলে তা নিশ্চিত খতিয়ে দেখা হবে।’’ তবে প্রশাসন সূত্রেও জানা গিয়েছে, ওই এলাকার শুনানিতে কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে অনেকেই নানা রকম শংসাপত্র দিয়েছেন, যা গ্রাহ্য নয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Voter West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy