ইরান যুদ্ধের জেরে মন্দা বাজার। দেশের একাধিক শহরে কমছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সূচক। তালিকায় নাম আছে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুণে, চেন্নাইয়ের। সেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম কলকাতা। প্রবাসী হোক বা এ দেশের নাগরিক, নতুন বাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এই শহরকে। ফলে পশ্চিমবাংলার রাজধানীতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বেশ চাঙ্গা রয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। তার আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়ি-ফ্ল্যাটের বিক্রি কমছিল। তবে, লড়াই বাধার পর হুড়মুড়িয়ে পড়তে থাকে রিয়েল এস্টেটের সূচক। বাজার নজরদার সংস্থাগুলির দাবি, মার্চ আসতে আসতে অন্তত সাতটি শহরে নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাটের চাহিদা অনেকটাই পড়ে যায়। সেই ধারা এখনও অব্যাহত।
আরও পড়ুন:
এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ১ হাজার ৬৭৫ ইউনিট, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়ি-ফ্ল্যাট বিক্রির অঙ্ক ১ লক্ষ ৮ হাজার ৯৭০ ইউনিট ছুঁয়ে ফেলে। এর বিক্রয়মূল্য ছিল আনুমানিক ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের শহরাঞ্চলগুলিতে বাড়ি-ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪,৫৭৫ ইউনিট। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে সেটাই কমে ৪,২১০ ইউনিটে নেমে এসেছে। নতুন প্রকল্পের সংখ্যা ৫,৮০০ থেকে হ্রাস পেয়ে ৫,২২০ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এক কথায়, শহরে আবাসন বিক্রির অঙ্ক আট শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিসংখ্যান বলছে, এ-হেন পরিস্থিতিতে মুম্বই মেট্রোপলিটান, বেঙ্গালুরু এবং হারদরাবাদে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের চাহিদা সর্বাধিক হ্রাস পেয়েছে। এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে চেন্নাইয়ে ১৮ শতাংশ, পুণেয় ১০ শতাংশ এবং দিল্লি-এনসিআরে (ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজ়িয়ন) রিয়েল এস্টেটের বিক্রি কমেছে আট শতাংশ। নতুন ফ্ল্যাটের ৭১ শতাংশের দাম ৮০ লক্ষ টাকা হওয়ায় সেগুলির চাহিদা ১৭ শতাংশ নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতার ক্ষেত্রে এই ছবি উল্টো হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। প্রথমত, এই শহরে নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দাম দেশের অন্য শহরগুলির তুলনায় বেশ সস্তা। দ্বিতীয়ত, গঙ্গাপাড়ের খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আঁচ সে ভাবে লাগেনি। আর তাই মধ্যবিত্তদের একাংশ বড় অংশ আবাসনের সেরা ঠিকানা হিসাবে বেছে নিচ্ছেন কলকাতাকেই।