ইরান যুদ্ধের আবহে সোনা-রুপোয় লগ্নিতে সাবধান! ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে হলুদ ও সাদা ধাতুর দর। আর্থিক বিশ্লেষকদের অনুমান, বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হলে দামি ধাতুর দামে ‘মেগা-পতনের’ বাড়বে আশঙ্কা। সে ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানের মুখ পড়তে পারেন বিনিয়োগকারীরা। আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল সোনা-রুপোর দামের তথ্য-তালাশের যাবতীয় হদিশ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে (২৮ তারিখ) পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ শুরু হওয়া ইস্তক ভারত-সহ বিশ্ব জুড়ে অস্থির হয় শেয়ার বাজার। গত দেড় মাসে অধিকাংশ জায়গাতেই হুড়মুড়িয়ে নেমেছে স্টকের সূচক। এ-হেন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিরাপদ লগ্নি হিসাবে সোনাকে আঁকড়ে ধরে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এ বারও তার অন্যথা হয়নি। যদিও ২০২৬ সালের পরিস্থিতি বেশ আলাদা বলেই মনে করেছে দেশের তাবড় ব্রোকারেজ় ফার্ম।
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে হু-হু করে বৃদ্ধি পায় অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম। ফলে ভারত-সহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির হার অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এতে আরও শক্তিশালী হবে ডলার। কারণ, কাঁচাতেল কেনার সেটাই একমাত্র মুদ্রা। এর জেরে সোনা-রুপোর দরের ঊর্ধ্বগতি থামকাতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আট শতাংশ কমেছে সোনার দাম। অন্য দিকে রুপোর দরে ১৬ শতাংশের পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্স প্রতি হলুদ ধাতু ৪,৮০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে সাদা ধাতুর দাম ৭৭ ডলার/আউন্সে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল কলকাতার খুচরো বাজারে ১০ গ্রাম হলমার্ক সোনার (২২ ক্যারেট) দাম কমেছে ১,০০০ টাকা। ফলে সেটার বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থামাতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে যুযুধান ইরান ও আমেরিকা। কিন্তু, সেই শান্তিবৈঠক ব্যর্থ হতেই হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করেছে দুই পক্ষ। ফলে ফের বিশ্ব বাজারে খনিজ তেলের দর রকেট গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। যেটা ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, তরল সোনার দর ওই হারে বৃদ্ধি পেলে আউন্স প্রতি ৪,৪০০ ডলারের নীচে নেমে আসবে সোনার দর। রুপোর দাম নামতে পারে ৬৭ ডলার/আউন্স। অর্থাৎ দু’টি দামি ধাতুর সূচক ১০ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমুখী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন তাঁরা। বর্তমান বিয়ের মরশুমে সেটা যে অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফোটাবে, তা বলাই বাহুল্য।