Advertisement
E-Paper

ডিজিটাল লেনদেন সত্ত্বেও তুঙ্গে নগদের চাহিদা, খরচ কমাতে সারা দেশে প্লাস্টিক নোট চালু করতে চলেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক?

ঘরোয়া বাজারে নগদের চাহিদা বেশি থাকায় কাগুজে টাকার বদলে এ বার প্লাস্টিক বা পলিমার নোট চালু করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতেই বাড়ছে জল্পনা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৩:০৩
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

আর কাগুজে মুদ্রা নয়। সারা দেশে এ বার চালু হবে প্লাস্টিকের নোট! ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক বা আরবিআই। সম্প্রতি, একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ ব্যাপারে ‘বিজ়নেস স্ট্যান্ডার্ড’-এ প্রকাশিত হয় প্রতিবেদন। তার পরেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

‘বিজ়নেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পটনা ও মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত শেষ দু’টি বৈঠকে ভারতে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে আরবিআইয়ের বোর্ড। কাগুজে মুদ্রার তুলনায় প্লাস্টিকের টাকার উৎপাদন খরচ অনেক কম। তা ছাড়া সহজে এটি ছিঁড়ে যায় না বা নষ্ট হয় না। সেই কারণেই এটিকে বাজারে আনার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

সরকারি সূত্রটির জবানিতে ‘বিজ়নেস স্ট্যান্ডার্ড’ লিখেছে, ‘‘কাগুজে মুদ্রার থেকে প্লাস্টিকের নোট তৈরির খরচ অনেক কম। এটি চালু হলে এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) থেকেও পলিমারের টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহক। প্লাস্টিকের টাকা চালু করার আর্থিক সামর্থ্য আমাদের আছে।’’

তবে সূত্রের খবর, প্রথমেই একসঙ্গে সারা দেশে পলিমার নোট না-ও চালু করতে পারে আরবিআই। ‘বিজ়নেস স্ট্যান্ডার্ড’ জানিয়েছে, গোড়ায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসাবে একে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের। আগামী দিনে এ ব্যাপারে বড় ঘোষণা করতে পারে তারা।

আরবিআইয়ের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩-’২৪ আর্থিক বছরে কাগুজে নোট ছাপাতে কেন্দ্রের খরচ হয়েছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে সেটা আরও বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটিতে গিয়ে পৌঁছোয়। আমজনতার মধ্যে কাগুজে টাকার চাহিদা বেশি হওয়ায় ওই নোট বেশি পরিমাণে ছাপতে বাধ্য হচ্ছে সরকার, জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

এর পাশাপাশি বার্ষিক রিপোর্টে ময়লা নোট বাতিলের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে আরবিআই। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২,৩৮০ কোটি নোংরা টাকা প্রত্যাহার করে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। সেটা আগের আর্থিক বছরের (২০২৩-’২৪) ২,১২৪ কোটির তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। বাতিল নোটগুলির অধিকাংশই ৫০০ টাকার বলে জানা গিয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ১০০ টাকা।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল গত এক বছরে এ দেশের আমজনতার হাতে থাকা নোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত ১১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সেটা ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়, যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড। চলতি অর্থবর্ষের (২০২৬-’২৭) প্রথম দেড় মাসে বাজারে থাকা কাগুজে টাকার পরিমাণ ১.১৫ লক্ষ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন সত্ত্বেও নগদের চাহিদা যে কমেনি, এটাই তার প্রমাণ।

Banknotes Indian Rupee Reserve Bank of India (RBI)
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy