রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। চন্দননগরে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন। তার পরেই চন্দননগর পুর নিগম বোর্ডে জোড়াফুল শিবিরের অবস্থা শোচনীয়। পড়েছে পদত্যাগের হিড়িক। শুক্রবার সকালেই পদত্যাগ করেছিলেন পাঁচ জন কাউন্সিলর। রাতে পদত্যাগ করলেন আরও ২৫ জন।
৩৩ ওয়ার্ডের চন্দননগর কর্পোরেশনে তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন ৩১ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনই পদত্যাগ করেছেন। তৃণমূলের এক জন পদত্যাগ করেননি। বাম কাউন্সিলরের সংখ্যা দুই। তাঁদেরও কেউ পদত্যাগ করেননি। জানা গিয়েছে, ২৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান স্নিগ্ধা রায় ও কমিশনারের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র মেল মারফত পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান ফের কাউন্সিলরদের পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেবেন কমিশনারের কাছে।
আরও পড়ুন:
পদত্যাগের পরে বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের পরাজয় হয়েছে। মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছি। তার পরেও ভেবেছিলাম পুরনিগমের পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারব কিন্তু পুরনগর উন্নয়ন দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হল পুরসভার খরচের অডিট হবে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও থাকল না। সামান্য চায়ের খরচ, গাড়ির তেলের খরচ পাচ্ছিলাম না। কয়েক দিন অপেক্ষার পরে নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে মনে করে আমরা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যদি কোনও কাজই করতে না পারি তা হলে চেয়ার আগলে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। নাগরিকদের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে। তাই এই সিদ্ধান্ত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের পদত্যাগ করার জন্য কেউ জোর করেনি। নতুন সরকার তৈরি হয়েছে। আশা করি তাঁরা মানুষের পরিষেবার দিকে নজর দেবেন।’’ তাঁর কথায়, “নির্বাচনে জয়- পরাজয় থাকবেই। চন্দননগর খুব সুন্দর একটি শহর। এই শহরকে রক্ষা করতে হবে সবাই মিলে।”