হাওড়া হাসপাতালের ভিতরেই চিকিৎসাধীন এক যুবককে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একটি গন্ডগোলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই যুবক। ঘটনায় যাঁরা জড়িত ছিলেন, এ বার তাঁদের বিরুদ্ধেই উঠেছে হামলার অভিযোগ। অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমেছে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার পুলিশ।
ঘটনা সূত্রপাত গত রবিবার সন্ধ্যায়। অভিযোগ, শালিমার স্টেশন লাগোয়া পার্কিংয়ের জায়গায় তোলাবাজি নিয়ে গন্ডগোল হয়। পার্কিং প্লেসের এক কর্মী যোগীন্দ্র সাউ ৫০ হাজার টাকা তোলা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করে কয়েক জন। যোগীন্দ্রকে বাঁচাতে ছুটে যান তাঁর অটোচালক ভাই রাজকুমার সাউ। তাঁকে সামনে পেয়ে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার পুলিশ।
আহত যোগীন্দ্রকে নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া জেলা হাসপাতালে। সে দিন থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে সিটি স্ক্যান করানোর জন্য তিন তলা থেকে এক তলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় রবিবারের হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সুনীল পাণ্ডে ওরফে ওমি নামে এক জন বাইকে করে সেখানে পৌঁছোন। যোগীন্দ্রকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। যোগীন্দ্রের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই রাজকুমার এবং তাঁর কয়েক জন বন্ধু। তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সুনীলকে জাপটে ধরেন এবং তার পরে পুলিশকে খবর দেন। হাসপাতালে মোতায়েন থাকা পুলিশ হাতেনাতে সুনীলকে পাকড়াও করে। এর পর তাঁকে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
যোগীন্দ্রের ভাই রাজকুমারের অভিযোগ, রবিবারে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পর সুনীল এবং তাঁর দলের অন্য সদস্যেরা তাঁদের নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকেন। অবিলম্বে ওই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের উপর চাপ দেওয়া হয়। মামলা না তোলায় খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন রাজকুমার। তাঁর অভিযোগ, মামলা তুলে তাঁরা রাজি না হওয়ায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সুনীলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ । পুলিশ সূত্রে খবর, পার্কিংয়ে মারধরের ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সুনীলের নামেও অভিযোগ রয়েছে।