মঙ্গলাহাটের পরে এ বার হাওড়া ময়দান ও মল্লিক ফটকের জিটি রোডের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মাইকে প্রচার শুরু করল হাওড়া সিটি পুলিশ। বুধবার দুপুরে ওই রাস্তাগুলির পাশে পসরা নিয়ে বসা বিক্রেতাদের স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে আর ব্যবসা করা যাবে না। এর পরেও কেউ রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে পসরা নিয়ে বসলে, তাঁর বা তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ দিন দুপুরে হাওড়া ট্র্যাফিক গার্ডের তরফে মাইকে এই নির্দেশ প্রচার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত ব্যবসায়ীদের এ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরেও ফুটপাত ও রাস্তা জুড়ে হকারেরা বসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
শহরের প্রাণকেন্দ্র হাওড়া ময়দান ও জিটি রোডের ফুটপাত বেদখল হয়ে রয়েছে গত কয়েক দশক ধরে। ওই সব ফুটপাত জুড়ে হকারেরা বসায় পথচারীদের পক্ষে হাঁটাচলা করা কঠিন হয়ে যায়। ওই এলাকায় জিটি রোড প্রশস্ত না হওয়ায় এমনিতেই হাঁটাচলা করার রাস্তার পরিসর কম। সেই সঙ্গে ফুটপাত দখল করে, প্লাস্টিক ও বাঁশের ছাউনি দিয়ে ঘিরে হকারেরা পসরা নিয়ে বসায় রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে আলো-বাতাস ঢোকে না। এই নিয়ে ব্যবসায়ীরা পুলিশ ও প্রশাসনকে বার বার অভিযোগ করলেও ফল হয়নি।
হাওড়া ময়দান এলাকার এক দোকানমালিক বলেন, ‘‘নতুন সরকার আসার পরে পুলিশ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা খুশি। সাধারণ মানুষও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।’’ হাওড়া সিটি ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘সিদ্ধান্ত হয়েছে, হাওড়া ময়দানের জিটি রোড, নেতাজি সুভাষ রোড, বনবিহারী বসু রোড, পি কে ব্যানার্জি রোডের মতো রাস্তায় বা সেখানকার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা যাবে না। এই সব রাস্তার যত্রতত্র বাইক বা গাড়ি পার্কিংও করা যাবে না। কেউ যদি গাড়ি বা বাইক দাঁড় করিয়ে রাখেন, তা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
হাওড়ায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিষয়টিও এ দিন এই সমস্ত রাস্তায় ঘুরে মাইকে প্রচার করেছে হাওড়া ট্র্যাফিক গার্ডের পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বেআইনি ভাবে অস্থায়ী দোকান ও যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের জেরে হাওড়া ময়দানের কাছে জিটি রোড ও সংলগ্ন রাস্তাগুলি সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। তাই যানজট কমাতে ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পুলিশের এই উদ্যোগ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)