বাতিল হয়ে গেল ত্বিশা শর্মার শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহের আগাম জামিন। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট বুধবার শুনানির পরে রায়দান স্থগিত রেখেছিল। পরে গভীর রাতে আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসে। সেখানে বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্রের একক বেঞ্চ ত্বিশার শাশুড়ির আগাম জামিন বাতিল করে দেয়।
ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর শাশুড়ি। পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার তিনটি পৃথক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি পণপ্রথা প্রতিরোধ আইনেও মামলা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে। এই মামলায় ভোপালের এক আদালত গিরিবালার আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিল। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা হয় হাই কোর্টে। এ বার সেই আগাম জামিন বাতিল করে দিল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। ১৭ পাতার রায়ে বিচারক লিখেছেন, মামলার প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে আগাম জামিনের নির্দেশ বাতিল করা হচ্ছে।
গিরিবালার আগাম জামিন বাতিল হওয়ার পরে ত্বিশার পরিবারের আইনজীবী অনুরাগ শ্রীবাস্তব পিটিআই-কে বলেন, “গিরিবালা ৩৬ বছর ধরে বিচারবিভাগে কর্মরত ছিলেন। আইনের প্রতি যদি তাঁর বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকে, তবে এ বার তাঁর শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া উচিত। তাঁর উচিত নিজে থেকেই সিবিআই-এর কাছে আত্মসমর্পণ করা। আগামী দিনে তদন্তেও পূর্ণ সহযোগিতা করা উচিত তাঁর।”
আরও পড়ুন:
গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দাবি, আত্মহত্যা করেছেন। তবে বাপেরবাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। পণের জন্য অত্যাচার চালানো হত বলেও অভিযোগ। ঘটনায় ত্বিশার স্বামী আইনজীবী সমর্থ সিংহ গ্রেফতার হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল প্রথমে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। বর্তমানে সমর্থ সিবিআই হেফাজতেই রয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা ইতিমধ্যে ভোপালের কাটরা হিলসে ত্বিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেছেন।