অনীক দত্তের মৃত্যুর খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন শ্রীলেখা মিত্র। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। চলচ্চিত্র জগতের ‘একমাত্র বন্ধু ও অভিভাবক’কে হারিয়ে শোকস্তব্ধ অভিনেত্রী। পরিচালকের অবসাদের কথাও জানালেন তিনি।
‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির পরিচালকের মৃত্যু শ্রীলেখার কাছে কোনও আত্মীয়বিয়োগের চেয়ে কিছু কম নয়। পরিচালকের সঙ্গে একাধিক কাজ করেছেন। নিয়মিত যোগাযোগেও ছিলেন। তাই শোকবিহ্ববল কণ্ঠে শ্রীলেখা বলেন, “অনীকদার মৃত্যু নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা সত্যি আমার নেই। অবসাদ খুব সাংঘাতিক একটা বিষয়। দিনের পর দিন মানুষ অবসাদকে অবহেলা করে। যাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না, তাঁরা ভাবেন, ‘অবসাদ এমনকি যে, এমন চরম পদক্ষেপ করতে হবে'!”
বুধবার দুপুরে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় অনীক দত্তের। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হয়েছে একটি ‘সুইসাইড নোট’। অবসাদকেই দোষ দিচ্ছেন শ্রীলেখা। অভিনেত্রীর আক্ষেপ, “ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবককে হারালাম। আমিও কিন্তু অনীকদার অভিভাবকের মতোই ছিলাম। অসম্ভব স্নেহ করতেন আমাকে। সোজাসাপটা মানুষ ছিলেন, মুখের উপর কথা বলতেন। তাই অনেকেই ওঁকে পছন্দ করতেন না।” কথা বলতে বলতেই গলা ধরে আসে অভিনেত্রীর। তিনি বলেন, “অনীকদাকে নিয়ে অতীতকালে কথা বলতে হচ্ছে, এটাই ভাবতে পারছি না।”
অনীক দত্তের ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শ্রীলেখা। ছবি ছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়েও পরিচালকের সঙ্গে কথা হত তাঁর। সেই সব স্মৃতি মনে করে শ্রীলেখা বলেন, “প্রায়ই কথা হত। এক দিন কথায় কথায় বলেছিলাম, ‘আর বাঁচতে ভাল লাগে না।’ অনীকদা তখন বলেন, ‘একদম ঠিক বলেছ। আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না।’ মানুষটার কী রসবোধ ছিল! অভিজাত বাঙালি ছিলেন। তাঁর যে এমন কিছু হতে পারে, ভাবতে পারিনি। আসলে অবসাদ সব শেষ করে দেয়। আমি নিজেও তো অবসাদের রোগী। অবসাদ মানুষকে শয্যাশায়ী করে দেয়। অনেকে ভাবেন, এই রোগ শৌখিন। এই রোগের প্রভাব পড়ে তো সেই মস্তিষ্কে। কতটা ভয়াবহ হতে পারে! ”
আরও পড়ুন:
মাঝেমধ্যেই অনীক দত্তকে নানা পরামর্শ দিতেন অভিনেত্রী। কখনও ওটিটি-তে ছবি দেখতে বলেছেন, কখনও পোষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। শ্রীলেখার কথায়, “ওটিটি-তে ছবি দেখতে বলতাম। অনীকদা বলতেন, ‘আর ভাল লাগে না।’ অনীকদাকে কুকুর পুষতেও বলেছিলাম, যাতে ওঁর ভাল লাগে। বাড়িতে ভাল সময় কাটে। তখন অনীকদা বলেছিলেন, ‘আমাকেই দেখার কেউ নেই। কী ভাবে আর একটা প্রাণকে দেখব?’ খুবই ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।”
মানুষ হিসাবে অনীক দত্তকে শ্রদ্ধা করতেন তিনি। তাঁর কথায়, “কোনও স্বার্থ ছিল না। অনীকদাকে কখনও বলিনি, ‘তোমার ছবিতে আমাকে নিয়ো’। কিন্তু শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন বরাবর। নিজের ক্ষতি তো হলই। ওঁর কন্যা ও স্ত্রীর কথাও ভাবছি। বাড়ি ফিরে আর বাবাকে দেখতে পাবে না অনীকদার মেয়ে। মেকি মানুষ আমি সহ্য করতে পারি না। সেখানে অনীকদা ছিলেন খাঁটি মানুষ। তাই চিরকালের ক্ষতিটা আমার হয়ে গেল।”