Advertisement
E-Paper

ইরানের সঙ্গে গোপনে বোঝাপড়া চলছে আমেরিকারই বন্ধুরাষ্ট্রের? খবর পেয়ে ট্রাম্প হুঙ্কার দিলেন, ওদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেব!

হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে আমেরিকার এক বন্ধুদেশের সঙ্গে গোপনে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান। বুধবার সেই খবর প্রকাশ্যে আসে। তা নিয়ে এ বার সেই বন্ধুরাষ্ট্রকে সাবধান করে দিলেন ট্রাম্প।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৯:৪৫
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স।

এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোষের মুখে পড়ল আমেরিকার এক ‘বন্ধুরাষ্ট্র’। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতায় গেলে ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প।

উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র ওমান। দীর্ঘ কয়েক দশকের সামরিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে দু’দেশের। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে ওমানে। বুধবার (স্থানীয় সময়ে) মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকের সময়ে উপসাগরীয় সেই বন্ধুদেশের উপর চটেছেন ট্রাম্প। তাঁর বিরক্তির কারণ সেই হরমুজ় প্রণালী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে খবর ছড়ায়, হরমুজ় দিয়ে চলাচল করা জাহাজের থেকে ওমানের সঙ্গে যৌথ ভাবে খাজনা আদায়ের কথা ভাবছে ইরান। ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানের কথাবার্তাও চলছে। এই খবর পেয়ে ওমানের উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। এমন কিছু ঘটলে ওমানকে বোমা মেরে ধ্বংস করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথের এক দিকে রয়েছে ইরান, অন্য দিকে ওমান। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ চলাকালীন হরমুজ়ের উপর একতরফা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে তেহরান। প্রথমে পছন্দসই দেশগুলির জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী নির্বিঘ্নে পার করার ‘ছাড়পত্র’ দেয় তারা। পরে জানা যায়, ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করা সব জাহাজের থেকে ‘খাজনা’ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। প্রত্যাশিত ভাবে, শুরু থেকে তেহরানের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে আমেরিকা। এরই মধ্যে বুধবার ইরানের সরকারি টেলিভিশনে দাবি করা হয়, ইরান এবং ওমান যৌথ ভাবে হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। এই সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও তাদের হাতে এসেছে বলে দাবি করে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম।

তবে ট্রাম্পের দাবি, এমন কিছুই হয়নি। মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকে ইরানের সরকারি টেলিভিশনের ওই রিপোর্ট খারিজ করে দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “ওমানকেও অন্য দেশগুলির মতো আচরণ করতে হবে। নয়তো আমরা ওদের উড়িয়ে দেব। ওরা (ওমান) তা বিলক্ষণ বোঝে। ওদের নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।” উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ‘বন্ধুরাষ্ট্রকে’ এই হুমকি দেওয়ার পরক্ষণেই ট্রাম্প অবশ্য জানান, আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত এমন কোনও পদক্ষেপ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ইরান এবং ওমান যদি এমন কোনও চুক্তিতে রাজি হয়, তা হলে তার মারাত্মক পরিণতি হবে। হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের উপর কোনও রকম নিয়ন্ত্রণ যে আমেরিকা বরদাস্ত করবে না, তা-ও ফের স্পষ্ট করে দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “এই প্রণালীটি সকলের জন্য খোলা থাকবে। কেউ এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে না। আমরা এর উপর নজরদারি চালাব। আমরা এর দেখভাল করব। কিন্তু কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নেবে না।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারির পরে ওমানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে নিউ ইয়র্ক টাইম্স। তবে ওমানের বিদেশ মন্ত্রক থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Donald Trump Strait of Hormuz Iran US Oman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy