আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আদৌ কোনও সমঝোতা হবে? অবসান ঘটবে সংঘাতের? শান্তি ফিরবে পশ্চিম এশিয়ায়? এমন নানা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বের নানা মহলে। দু’দেশের মধ্যে কত দিন যুদ্ধবিরতি থাকবে, তা-ও প্রশ্ন উঠছে। সেই আবহেই আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল ইরান। শুধু তা-ই নয়, পাল্টা হুঁশিয়ারি, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দেবে তারা।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে যুদ্ধবিরতি ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছে মার্কিন বাহিনী। তার পরেই তারা জানিয়েছে, তেহরান ‘সব আগ্রাসনের জবাব দেবে এবং নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় এক পা-ও পিছু হটবে না’।
সোমবার রাতে (স্থানীয় সময়) মার্কিন সেন্ট্রাল বাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে। পারস্য উপসাগরে মাইন পোঁতার চেষ্টা বিরত করেছে। যে নৌকাগুলি ওই অঞ্চলে মাইন পাতার চেষ্টা করছিল, সেগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অন্য দিকে, ইরান দাবি করেছে, তাদের বাহিনীও মার্কিন ড্রোন নামিয়েছে। তার পরেই তাদের হুঁশিয়ারি, বার বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর চেষ্টা করলে আমেরিকাকে ‘নিশ্চিত এবং উচিত’ জবাব দেবে।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি চলছে। কূটনৈতিক পথে সংঘাতের সমাধানের চেষ্টা চলছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, অন্য কোনও পদক্ষেপ করার আগে কূটনৈতিক ভাবে সমস্যার সমাধান করার সব রকম পথ নেড়েচেড়ে দেখতে চান তিনি। তবে এরই মধ্যে সোমবার রাতে দক্ষিণ ইরানে বন্দর আব্বাস শহরে পর পর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। পরে মার্কিন বাহিনীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায়, আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ইরানে হরমুজ়ের ধারে বন্দর আব্বাস শহরটি তেহরানের কাছে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের নৌসেনা এবং বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি রয়েছে এই শহরে।
আরও পড়ুন:
সংঘর্ষবিরতি চলাকালীন এর আগেও আমেরিকা এবং ইরানি বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি চলেছে। চলতি মাসের শুরুতে আমেরিকা অভিযোগ করেছিল, তাদের যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ‘উস্কানিমূলক’ ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তার জবাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক এলাকায় ‘প্রত্যাঘাত’ করেছিল আমেরিকা। সেই জট কাটতে না-কাটতেই আবার দু’দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।