আগামী দিনের বিশ্ব চলবে বিরল খনিজে। সেমিকন্ডাক্টর থেকে গাড়ি, সৌর বিদ্যুৎ থেকে মহাকাশ গবেষণা— সব ক্ষেত্রেই বিরল খনিজের ব্যবহার বাড়ছে হু-হু করে। বিশ্বের বড় অংশের আশঙ্কা, বিরল খনিজের চাবিকাঠি চিনের হাতে। এই পরিস্থিতিতে দুষ্প্রাপ্য খনিজে চিন-নির্ভরতা কমাতে এবং সমন্বয় গড়ে তুলতে সহমত হল ভারত-আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এই সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেছে দুই দেশ। আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োকে পাশে নিয়ে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চিনের একচেটিয়া আধিপত্যকে টক্কর দিতেই এই বিরল খনিজ ফ্রেমওয়র্ক চুক্তি, জানাচ্ছে কূটনৈতিক শিবির।
আজ চতুর্দেশীয় অক্ষ কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরাও বৈঠকে বসে দুর্লভ খনিজের উদ্যোগে সহযোগিতার ফ্রেমওয়র্ক ঘোষণা করেছেন। তাতে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। চিন যে ভাবে রফতানি নিয়ন্ত্রণ করছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমেরিকা, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনে ‘ফোরাম অন রিসোর্স জিয়োস্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট’-এর সূচনা করেছিলেন মার্কো রুবিয়ো। তাতে যোগ দেয় ভারত। আমেরিকার দূতাবাস সূত্রে খবর, মঙ্গলবারের চুক্তিটি সেই আলোচনারই পরবর্তী ধাপ। এই ফ্রেমওয়র্কের মূল লক্ষ্য হল কৌশলগত খনিজ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি বিশ্বস্ত নেটওয়র্ক তৈরি করা এবং একক কোনও দেশের উপরে নির্ভরতা কমিয়ে বাজারকে সুরক্ষিত রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে বিরল খনিজের সন্ধানে অর্থায়ন ঘটবে, এর সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিস্থাপক করে তোলা যাবে, খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি এবং বিরল খনিজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ ভাবে কাজ করবে ভারত ও আমেরিকা। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এই চুক্তিকে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের গভীর সম্পর্কের প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, “এটি খনিজ ও বিরল উপাদানের কার্যকর ব্যবস্থাকে সহায়ক করে তুলবে। এই চুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ।”
আমেরিকান বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো আমেরিকার কৌশলগত পরিকল্পনায় ভারতের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে একে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক জ্বলন্ত উদাহরণ বলেছেন। প্রসঙ্গত, বিরল খনিজের বণ্টন-শৃঙ্খল তৈরির জন্য আমেরিকার সরকার তিন হাজার কোটি ডলার ঢালবে বলে জানানো হয়েছে। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারি, ঋণ, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সহায়তার জন্য এটা কাজে লাগবে। চিনের নাম না করে রুবিয়ো বলেন, “এই ধরনের স্পর্শকাতর শিল্পে যাতে কারও একচেটিয়া অধিকার কায়েম না হয়, তাতে আমাদের দুই রাষ্ট্রেরই (ভারত ও আমেরিকা) কৌশলগত স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। না হলে কোনও একটি রাষ্ট্র তারফায়দা তুলবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)